সিলেটে মুসল্লি-ইসকন ভক্তদের সংঘর্ষ; আহত ২৫

sylhet escon mondir
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: সিলেট নগরীর মধুশহীদে মুসল্লি ও ইসকন ভক্তদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর শহরের ইসকন মন্দিরের সামনে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরে পুলিশ জালালাবাদ ও এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩০-৩৫ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়।

এসময় পুলিশ ভাতালিয়া ও কাজলশাহ এলাকা থেকে মুসল্লিসহ বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৩৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার থেকে সিলেট নগরীর মধুশহীদ এলাকাস্থ ইসকন মন্দিরে সনাতন ধর্মের ধর্মীয় শাস্ত্রের syl pic 2 Escon mondirউপর প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্রের উপর প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে ইসকন ভক্তরা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সেখানে গানবাজনা করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি ইসকনে গিয়ে কয়েকবার গানবাজনা বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্ত তারা গানবাজনা বন্ধ না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে নামাজ শেষে ভাতালিয়া জামেয়া মসজিদের মুয়াজ্জিন ওই এলাকার মুসল্লিসহ সবাইকে প্রস্তুত হওয়ার জন্য এলাকাবাসীকে জানান। অপরদিকে মধুশহীদস্থ এলাকার মুসল্লিরা নামাজ শেষে ইসকনের মার্কেট ভাংচুর ও মন্দিরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে ইসকন মন্দিরের সদস্যরাও পাল্টা জবাব দিলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় দুইপক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়।

মধুশহীদ এলাকার বাসিন্দা অর্ণব চক্রবর্তী বলেন, নামাজ শেষ হওয়ার পর পরই ভাতালিয়া মসজিদের মাইকে এলাকাবাসীকে একত্রিত হয়ে ইসকনের কাছে আশার জন্য বলা হয়। এরপর শতাধিক মুসল্লি ইসকনকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে ইসকনের প্রভূ রাজন চক্রবর্তীর উপর হামলা চালানো হয়। এসময় রড় দিয়ে পিঠিয়ে তার ডান হাত ভেঙে দেয়া হয়।

ভাতালিয়া ও কাজলশাহ এলাকার ৮-১০ বাসিন্দা জানান, প্রায়দিনই নামাজের সময় ইসকন মন্দিরে বাদ্যযন্ত্র দিয়ে গানবাজনা চলে। একাধিকবার স্থানীয় কাউন্সিলরসহ এলাকাবাসী দেখা করে এ বিষয়টি অবগত করলেও তারা তা আমলে নেয়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভাতালিয়া এলাকার বাসিন্দা মামুন আহমদ পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, ইসকনের কারণে ভাতালিয়া ও কাজলশাহ এলাকার মানুষ অতিষ্ট। নামাজের সময় তাদেরকে মন্দিরের ভেতরে কিছু সময়ের জন্য গানবাজনা বন্ধ রাখার জন্য অতীতে অনেকবার অনুরোধ করা হলেও তারা তা শুনেনি। বরং তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) রহমত উল্লাহ জানান, নামাজ শেষে মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে ইসকনকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এসময় ইসকনের একটি মার্কেটের গ্লাস বাহির থেকে ভাংচুর করা হয়। তবে কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে পুলিশ এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয়।

সংঘর্ষের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৫ জনকে আটক করেছে। ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ad