স্ত্রীকে কটূক্তি করায় মা-ভাই-খালাকে হত্যা করে তুহিন

Pabna 3 Murder Ashami Tuhin
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার সোনাপদ্মা গ্রামে মা-ভাই-খালাকে গলাকেটে ও কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তুহিন শেখ (২২)।

শনিবার (৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ৩টায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি তদন্ত দল গত শুক্রবার (৬ জুলাই) খুলনার ফুলতলা থেকে তুহিনকে গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মা, খালা ও ছোট ভাইকে নিজ হাতে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তুহিন। পরে পাবনার আমলী আদালত-৩ এর বিজ্ঞ বিচারক আব্দুল মমিনের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে হত্যার কারণ সম্পর্কে তুহিন পুলিশকে জানিয়েছে, ৯ মাস আগে ভালোবেসে পরিবারের অমতে সে রুনা খাতুনকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তাদের বাড়িতে থাকা খালা মরিয়ম খাতুনসহ পরিবারের লোকজন তুহিনের স্ত্রীকে মাঝে মধ্যেই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গালিগালাজ ও কটূক্তি করতো। ঘটনার দিন ভোরে খালা মরিয়ম খাতুনের সাথে এ নিয়ে তর্ক হয় তার। এক পর্যায়ে তাকে গলাকেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে সে। এ সময় তার মা তাসলিমা খাতুন ও ছোট ভাই তুষার এতে বাধা দেন।  এরপর তাদেরকেও কুপিয়ে হত্যা করে সে।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তুহিনের স্ত্রী রুনা জানিয়েছিলেন, ঘটনার দিন ভোরে গোঙানীর শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে তিনি দেখেন বাড়ির উঠোনে তিনজনের রক্তাক্ত লাশ। পাশে তার স্বামী ধারালো অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় তুহিন স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলে ‘তিনটারেই শেষ করে দিলাম’। এ ঘটনায় রুনা খাতুনও হত্যার বিষয়ে আদালতের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত: গত বুধবার (৪ জুলাই) ভোরে বেড়া উপজেলার সোনাপদ্মা গ্রামে মা তাসলিমা খাতুন ওরফে বুলি, ছোট ভাই তুষার ও আপন খালা মরিয়ম খাতুন ওরফে নছিমনকে গলাকেটে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে ওই গ্রামের মিঠু শেখের বড় ছেলে তুহিন শেখের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর নিহত দুই বোনের ছোট ভাই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ad