হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীরা সরকারের সহযোগিতা চান

Hoker Market
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ঈদুল ফিতরের আগ মুহূর্তে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ময়মনসিংহের হকার্স সুপার মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ধ্বংসস্তুপ মুছে ঘুরে দাঁড়াতে চান। সে জন্য তারা সরকারের সহায়তা দাবি করেছেন।

শনিবার (৯ জুন) ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকদিন আগের সাজানো গোছানো মার্কেট এখন কেবলই ছাইয়ের স্তুপ। মোট ৫৩ ব্যবসায়ী পরিবার পরিজন নিয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করছেন তাদের পুড়ে যাওয়া দোকান। শুক্রবার দিনভর কাজ করে তারা আগুনে পোড়া জুতা, গার্মেন্টস পণ্য, ইমিটেশনের গহনা ও কসমেটিক্সসহ বিভিন্ন মালামাল সাফ সুতরো করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। শনিবার তারা ঘর পরিস্কার করে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে টিন লাগানোসহ বিভিন্ন কাজ করছেন।

এ সময় কথা হলে ব্যবসায়ীরা বলেন, যা হয়েছে সেটা ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। তবে এভাবে আমরা থেমে থাকতে চাই না। খুব দ্রুতই সবকিছু নতুন করে শুরু করতে চাচ্ছি। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাহলেই Mymensinghআবার খুব দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত রিশাদ সুজ এর মালিক মো. শাহিদ মোল্লা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিচ্ছে। ইতোমধ্যে মেরামতের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঢেউটিন দেয়া হয়েছে। আমরা যারা কিছু টাকা পয়সা জোগার করতে পেরেছি তারা কাজ করতে পারছি। আর যারা টাকা পয়সা জোগাড় করতে পারেননি তারা কেবল পরিষ্কার করে রাখছেন।

মার্কেটে টেইলারিংয়ের ব্যবসা থাকা শ্যাম কিশোর দত্ত বলেন, তার একটি দোকান ও দুইটি গুদাম ৪০ লাখ টাকার মালামালে ঠাসা ছিল। ঈদ উপলক্ষে আরও ১০ লাখ টাকার মালামাল মজুদ করেছিলেন। আশা ছিল ঈদে ব্যবসা ভালো হলে ধারদেনাসহ ব্যাংক ঋণ শোধ করবেন। কিন্তু বৃহস্পতিবারের আগুনে তার সব স্বপ্নই মিশে গেছে পোড়া মাটিতে। আগামীতে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন জানা নেই বলে জানান তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, তার জুতোর দোকানে প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল ছিল। ঈদ উপলক্ষে আরও ৪ লাখ টাকার নতুন জুতা মজুদ করেছিলেন। সারা বছরের আয়ের একটা বড় অংশ এই ঈদের বেচাকেনা থেকে হয় বলে তিনি জানান। কিন্তু সর্বনাশা আগুনে তার সব শেষ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মালিক ও ব্যবসায়ীদের তালিকা Mymensingh, Hawker's Super Market, Fire, 150 Shops, gone,প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দোকানঘর নির্মাণে প্রয়োজনীয় অর্থ ও টিনসহ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা গাঙিনাপাড় হকার্স মার্কেটে ময়মনসিংহের ইতিহাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৪৭ দোকানসহ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় মার্কেটের চারপাশের আরও বেশকিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মার্কেটের ভেতরের ব্যবসায়ীদের বাইরে হকার্স মার্কেটে যাদের নিয়মিত বিনিয়োগের পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে বাড়তি বিনিয়োগ করা ছিল কিংবা যারা ধারে নগদ টাকা ও বাকিতে মালামাল দিয়েছিলেন তারাও পড়েছেন মহাবিপাকে।।

নাইম সুজের মালিক কবীর হোসেন জানান, কেবল ঈদকে উপলক্ষ করেই হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছে বাকিতে ২০ লাখ টাকার জুতো দিয়েছেন তিনি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সঙ্গে তিনিও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন কীভাবে ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা চাইবেন তা ভাবছেন।

ad