বিএনপির ভিশন-২০৩০: যুগোপযোগী জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে

Vision 2030, timely, public administration
ad

জাগরণ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ ঘোষণাকালে বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে যুগোপযোগী জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে।

বুধবার (১০ মে) বিকাল পৌনে ৫টায় গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনের বলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এ কথা জানান।

খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য এনে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেবে। বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোয় প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে একটি ‘স্বৈরচারী একনায়কতান্ত্রিক’ শাসনের জন্ম দিয়েছে। ক্ষমতায় গেলে বিদ্যমান অবস্থার অবসানকল্পে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সংবিধানের এককেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের উচ্চ কক্ষ প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। সংবিধানে গণভোট ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃস্থাপন করা হবে, জাতীয় সংসদকে সব জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, সুনীতি, সুশাসন ও সু-সরকারের সমন্বয় ঘটাবে বিএনপি। পুলিশ, প্রসাশন, বিচার ও কারাগারে হস্তক্ষেপ কমাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে। বিচার বিভাগের কর্তব্য পালনে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বিএনপি দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপোস করবে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যে ‘বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক বিধান’ যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো সংস্কার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের হাতেই রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে চায়। আমরা ওয়ান ডে ডেমোক্রেসিতে বিশ্বাসী নই। জনগণের ক্ষমতাকে কেবল ভোট দেওয়ার দিনে আবদ্ধ রাখতে চাই না। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্রে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে জাতির কাছে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বিএনপি রাজনৈতিক সামাজিক বিভাজনের অবসান ঘটাতে চায়।

খালেদা জিয়া তার ঘোষণায় বলেন, দেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা রোধ করা হবে। সকল ধরণের কালা-কানুন বন্ধ করা হবে। শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে। যোগ্য বিচারকদের মাধ্যমে মামলা জট কমিয়ে আনা হবে। উচ্চ পর্যায়ের জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করা হবে। অনেক সময় দেখা যায় পুলিশ মামলা নেয় না। অনলাইন ও টেকনোলজি ব্যবহারের মাধ্যমে মামলা দায়েরের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

ভিশন-২০৩০ ঘোষণায় খালেদা জিয়া আরও যেসকল ঘোষণা দেন সেগুলো হোল: বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে, সুপ্রিম কোর্টের অধীন পৃথক সচিবালয় করা হবে, সালিশী আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায় কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে, প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও সর্বোচ্চ দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করে তোলা হবে।

ঘোষণায় আরও আছে, বিএনপি অন্য কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হবে না, অন্য কোনো রাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ করলে তা প্রতিরোধ করবে, মুসলিম উম্মাহ ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা হবে, বিএনপি বিদ্যুৎ সরবরাহ, পানীয় জলের সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবাসহ সকল সেবার মান উন্নত করবে, অতি স্বল্প আয়ের মানুষের ভাগ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করবে।

ঘোষণাকালে খালেদা জিয়া বলেন, আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষিত বেকারদের ভাতা দেবে, নারী উদ্যোক্তাদের অধিকতর উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নে প্রয়োজনীয় সমর্থন, স্বল্প-সুদে ব্যাংকঋণ এবং কর-ছাড় দেওয়া হবে, ক্ষমতায় এলে দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করবে, পুলিশের জন্য ওভার-টাইম চালু হবে।

ad