খাবার জোটে না আবার ঈদ কিসের?

sathkhira 1
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: আইলা ও সিডর বিধ্বস্ত সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চল আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায় কয়েক শত পরিবারের মধ্যে  ঈদ আনান্দের ছোঁয়া লাগেনি।

বারবার ভেড়িবাঁধ ভেঙে বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মাছের ঘের ভেসে গেছে, ফসল হয়নি। ভেড়িতে টোঙ ঘর বেঁধে বসবাস করতে হচ্ছে। পরিবারের দৈনন্দিন খাবার জোটাতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের নতুন কাপড় কেনা তো দুরের কথা সেমাই চিনি কেনাই কষ্টসাধ্য তাদের কাছে। যদিও জেলা প্রশাসক বলেছেন, ভিজিএফ কার্ড পাঠানো হয়েছে। করা হয়েছে আর্থিক সহযোগিতা।

আইলা দুর্গত সাতক্ষীরার আশাশুননি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা, শুভদ্রাকাটি, শ্রীপুর, কুড়িকাউনিয়া ও sathkhiraবন্যাতলা, শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন পদ্মপুকুর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, মুন্সীগঞ্জ, রমজাননগর, কৈখালীতে চলছে কর্মসংস্থানের তীব্র সংকট। কাজের অভাবে উপার্জনের পথ রুদ্ধ হওয়ায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এর ফলে ঈদকে ঘিরে তাদের কোনো আনন্দ নেই। বছরের অন্যান্য দিনের মতই কাটবে তাদের ঈদের দিন।

এ বছর সরকারি-বেসরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা পায়নি এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। গেল বছরগুলোতে ঈদের সময় ইউনিয়ন থেকে ভিজিএফ কার্ডেও মাধ্যমে কিছু চাল পেত। এবার চালের বদলে গম পাচ্ছে । তাও হাতে গোনা কিছু পরিবার। যে কারণে তারা এবার ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

শুভদ্রাকাটি গ্রামের আয়নাল হক বলে, ঠিকমত কাজ করতে পারছি না। তিনবেলা খাবার জোগাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। খাবার জোটে না আবার ঈদ কিসের?

দ্বীপ ইউনিয়ন পদ্মপুকুরের আলম হোসেন বলেন, বছরের বাকি দিনগুলোর মত ঈদও আমাদের কাছে একই। আগে তাও ভিজিএফ চাল পেতাম। এবারতো তাও জোটেনি।

তারা বারবার ভেড়িবাঁধ ভাঙার হাত থেকে রেহাই পেতে চায়। চায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা পেতে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দীন জানান, সরকার ঈদ উদযাপনের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে। যদিও উত্তরাঞ্চলে বন্যার কারণে এবার ভিজিএফ কার্ডে চালের বদলে গম দেয়া হচ্ছে।

ad