খুলে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার

aktaruzzaman flyover
ad

নিজস্ব প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বহুল কাঙ্খিত মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারে পরীক্ষামূলক যান চলাচল শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাইওভারটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেন।

ফ্লাইওভারটি খুলে দেওয়ার পরই নগরীর বিভিন্ন যানবাহন চালক খুশিমনে গাড়ি নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এ সময় বশির আলী নামে একজন মাইক্রোচালক বলেন, ফ্লাইওভারে যান চলাচল শুরুর কারণে মুরাদপুর বিমানবন্দর সড়কে দীর্ঘ দিনের যানজট থেকে রেহাই পাবেন নগরবাসী।

এ ফ্লাইওভার চালু হওয়ায় চট্টগ্রামের যান চলাচলে স্বস্তি আসবে কলে মন্তব্য করেছেন নগরীর নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সুলতানুল আলম বলেন, গত কয়েক বছরে মুরাদপুর-জিইসি-লালখান বাজার সড়কটিতে যানজট অনেক বেড়েছে। অফিস টাইম ও সন্ধ্যার দিকে গাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে হয়।

তিনি মনে করেন ওই সড়কের ওপর দিয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। এতে নাগরিক জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসবে।

ফ্লাইওভার খুলে দেওয়ার সময় চউক চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম বলেন, চট্টগ্রামের সবচেয়ে দীর্ঘ এই ফ্লাইওভারের কাজ জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু ঈদে যানজট কমাতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগের অনুরোধে ফ্লাইওভারটি পরীক্ষামীমূলকভাবে খুলে দেয়া হয়। তাছাড়া এটি নগরবাসীর জন্য ঈদ উপহার।

তিনি বলেন, ফ্লাইওভারটির ১০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি। তবু দুই লেনের কাজ শেষ হওয়ায় খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ঈদের পরে পুরোপুরি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

৫.২ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারের ষোলশহর দুই নম্বর গেট এবং জিইসি মোড়ে র‌্যাম্পসহ দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। চট্টগ্রামে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এই ফ্লাইওভারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬৯৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এটি নগরীর যান চলাচলে গতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

ফ্লাইওভার প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, অতীতে সব ফ্লাইওভারে ক্রেন দিয়ে গার্ডারগুলো তোলা হতো। আমরা এ ক্ষেত্রে লাঞ্চার দিয়ে সে কাজ করছি। বাংলাদেশে দ্রুতগতিতে নিখুঁত কাজের ক্ষেত্রে মুরাদপুর-ওয়াসা ফ্লাইওভার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১ জুন মুরাদপুর-ওয়াসা আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। পরে প্রথম সংশোধিত ডিপিপি ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর আবার একনেকে অনুমোদন হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর প্রকল্পটির ভৌত কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

ad