চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে নিহত ২৫

Mountain collapse, dead, 25
ad

জাগরণ ডেস্ক: নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামে ৪ জন, রাঙামাটিতে ১৪ জন এবং বান্দরবানে ৭ জন নিহত হয়েছেন। এখনও মাটির নিচে অনেকে চাপা পড়ে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা।

সোমবার (১২ জুন) থেকে মঙ্গলবার (১৩ জুন) পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে এই তিন জেলার বিভিন্নস্থানে পাহাড়ধসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম: জেলার চন্দনাইশ উপজেলায় পাহাড় ধসে শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দু’জন। উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নে এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী আসগর আলীর কাঁচা ঘরের ওপর মাটি ধসে পড়ে।

নিহতরা হলেন, আজগর আলীর শিশুকন্যা মাহিয়া, ছনবুনিয়া উপজাতিপাড়ার একই পরিবারের দুই শিশু কেউচা কেয়াং (১০), মেমাউ কেয়াং (১৩) এবং গৃহবধূ মোকাইং কেয়াং (৫০)। মাহিয়া নিহত হন মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং একটি ঘরের ওপর পাহাড় ধসে মারা যান বাকি তিনজন।

এ ঘটনায় ওই পরিবারের সানুউ কেয়াং (২১) ও বেলাউ কেয়াং (২৮) নামের আরো দু’জন আহত হয়েছেন। তাদের বান্দরবান হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাঙ্গামাটি: রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নয়জনের মৃতদেহ রাঙামাটি সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীতে ইকবাল নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন।

Mountain collapse, dead, 25

এখন পর্যন্ত যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন, যুব উন্নয়ন ও ভেদভেদি এলাকার রুমা আক্তার, নুড়িয়া আক্তার, হাজেরা বেগম, সোনালী চাকমা, অমিত চাকমা, আইয়ুস মল্লিক, লিটন মল্লিক, চুমকি দাস, রাইখালী ইউনিয়নের কারিগরপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে অনুচিং মারমা (৩০), আবুল হোসেন ও নিকি মারমা।

অতি বর্ষণের ফলে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়া মাটির নিচে এখনও অনেকে চাপা পড়ে আছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে বৃষ্টি কারণে উদ্ধার কাজ চালাতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। রাঙামাটি শহরের অধিকাংশ এলাকাই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

বান্দরবান: বান্দরবানের বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধসে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুইজন। আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শহরের বালাঘাটা কবরস্থান এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ২০ ফুট লম্বা একটি কাঁচাঘরের এক-চতুর্থাংশ মাটির নিচে চাপা পড়েছে।

নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন – লেমুঝিরির বাসিন্দা সমুন বড়ুয়ার তিন সন্তান শুভ বড়ুয়া (৮), মিতু বড়ুয়া (৬) ও লতা বড়ুয়া (৪), আগাপাড়ার কামরুন নাহার (২৭) ও তাঁর মেয়ে সুখিয়া আক্তার (৮) এবং কালাঘাটার কলেজছাত্র রেবা ত্রিপুরা (১৮)।

নিখোঁজ রয়েছেন – জাইল্লাপাড়ায় একই পরিবারের মা কামরুন্নাহার ও মেয়ে সুফিয়া (২০)। তাদের খোঁজে ধসে পড়া মাটি সরানো হচ্ছে।

পাহাড় ধসে রুমা উপজেলার সঙ্গেও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে দুদিন ধরে। অবিরাম বর্ষণে বান্দরবানে কয়েক সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। দুর্গত এলাকার মানুষ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে, অবিরাম বৃষ্টিতে অচল হয়ে পড়েছে উপকূলীয় এলাকার জীবনযাত্রা।পানিতে আটকা পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। দেশের ৪টি সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত বহাল রাখতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

ad