ট্রাফিক সপ্তাহ বাড়ল আরও ৩ দিন

jagoran- Traffic week, increase, 3 days,
ad

জাগরণ ডেস্ক: নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া ট্র্যাফিক সপ্তাহ আরও তিন দিন বাড়িয়ে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।

শনিবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ট্রাফিক সপ্তাহের সময়সীমা আরও তিন দিন বাড়ানো হয়েছে। ৫ আগস্ট থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত চলা ট্রাফিক সপ্তাহ শনিবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনায় এবং সড়কে যানবাহন চলাচলে অনেকটা অগ্রগতি হওয়ায়, ট্রাফিক সপ্তাহের সময়সীমা ১৪ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমরা এই ট্রাফিক সপ্তাহে ব্যক্তি, পেশা, তার অবস্থান নির্বিশেষে সবাইকে এই বার্তা দিতে পেরেছি যে, ট্রাফিক আইন অমান্য করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আমাদের কোমলমতি শিশু-কিশোররা আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তাদের দাবি যৌক্তিক, ন্যায্য। আমরা নৈতিকভাবে এটাকে সমর্থন করি। তাদের বার্তা আমরা অন্তরে ধারণ করি। সেই তাড়না থেকে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

তিনি আরও বলেন, এই জনদুর্ভোগ দীর্ঘদিন চলতে পারে না। এখানে কর্মজীবী মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে এমনকি তাদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে একটা চরম অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মনে করি যে, আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে অভিপ্রায় নিয়ে মাঠে নেমেছে, সেজন্য আমরা অবশ্যই তাদের স্যালুট করি। আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা শহরে কেউ ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে, সে যেই হোক, যে শ্রেণি-পেশারই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা হবে। মোটরসাইকেলের রেস, বাসের পাল্লাপাল্লি, রাস্তার মাঝখানে গাড়ি দাঁড় করানো, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আত্মসমালোচনার জায়গায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আমাদের আরও আগে যে কাজটি করা উচিৎ ছিল, যা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা করতে পারিনি। আজকে তারা আমাদের একটা নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, কোনোভাবেই আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। বরং তারা আমাদের পরিপূরক, আমাদের সমর্থন করছে।

আসাদুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে ধ্বংসাত্মক রূপ দেয়ার জন্য অনেকে চেষ্টা করেছেন। আপনারা অনেক ‘তথাকথিত’ দায়িত্বশীল নেতার অডিও-ভিডিও রেকর্ড শুনেছেন। এমন আরও কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার অডিও রেকর্ড রয়েছে পুলিশের হাতে।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, কিভাবে শিক্ষার্থীদের ওই আন্দোলনে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে ধ্বংসাত্মক পরিবেশ তৈরি করা হবে, সেসব তথাকথিত দায়িত্বশীল নেতার অডিওতে এগুলো উঠে এসেছে।

ad