বঞ্চিত পথ শিশুদের দেখার কেউ নেই, ঈদ কাটবে রাস্তায়

street children
ছবি: আহাদুল করিম
ad

ওমর ফারুক: রাজধানীর পথ শিশুদের রাস্তায় তাদের বাড়ি রাস্তায় তাদের ঘর। রেল লাইনের পাশে, বাসস্ট্যান্ড, লেকের পাড়ে, ঝিলের পাড়, বস্তির পাশে, ফুটওভার ব্রিজে, ফ্লাইওভারের পাশে তাদের জীবন পড়ে থাকে। যেন তাদের দেখার কেউ নেই। তাদের ভালো রাখার নেই কোন উদ্যোগ। মানুষের বস্তা, ব্যাগ, ট্রলিসহ অন্যান্য জিনিস বহন করে চলছে তাদের দিনকাল। আসন্ন পবিত্র রোজার ঈদ কোথায় করবে তাও জানে না তারা। অনেকের বাবা-মা নেই, আবার অনেকের থেকেইও নেই, আবার বেশির ভাগই বাবা মা ছাড়া।

street children

খুব ছোট কাল থেকেই ঢাকায় থাকে এমন কথা ব্যক্ত করেন শিশু আল আমিন। থাকে কমলাপুর রেল স্টেশনে। বাব-মা নেই। টোকাইয়ের কাজ করে নিজে চলে। ভাই বোন আছে কিনা তাও সে জানে না।

ঈদ কোথার করবে জিজ্ঞাস করলে উত্তরে বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি কোথায় আমি নিজেও জানি না। আপনাকে কিভাবে বলবো। ছোট থেকেই ঢাকাতে টোকায়ের কাজ করি। তবে যাওয়ার কোন স্থান নেই তাই ঈদ করি ঢাকায়। যখন কারো ইচ্ছে হলে ঈদে এখান থেকেই জামা-পাজামা দেয়। আনন্দ করে পড়ে নিজের কাজে অনেক ভালো লাগে।

এখানে মানুষের কাজ করে কিছু টাকা আয় করি। আবার বিভিন্ন কাজে খরচও হয়ে যায়। চা সিগারেট খাই। তবে ঈদের সময় মানুষের কাজ থেকে খুঁজে কিছু খাবার পাই। সেগুলো খেয়ে তাদের জন্য দোয়া করি।

কষ্টের সাথে সে বলে, আমারা রাস্তার ছেলে-মেয়ে যারা আছি সবাই একসঙ্গে রাস্তায়ই ঈদ করবো।

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম জানান, শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কিন্তু পথ শিশুদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আনতে হলে তাদের মূল ধারায় এনেপূনর্বাসন করতে হবে। পথ শিশুদের জন্য অনানুষ্ঠিক শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা। তাদের মৌলিক অধিকার প্রত্যেকটিই নিশ্চিত ও বাস্তবায়ন করা।

street children

তিনি আরো বলেন, পথ শিশুদের জন্ম নিবন্ধন ও নাগরিক সুবিধা প্রদান করা। এই সকল দায়িত্ব পালন করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বিভিন্ন এনজিও ও সুশীল সমাজ, শিশুঅধিকার সংস্থাগুলোকে একযোগ কাজ করে পথ শিশুদের উন্নয়ন করা সম্ভব। সবাই তাদের দিকে এগিয়ে আসলে নতুন জীবন-যাপন করতে পারে তারা।

গুলিস্তান মাজারের কাছে যার স্থান সে হলো কবিরা। দেশের বাড়ি উত্তরাঞ্চলের দিকে। ঢাকাতে কোন আত্মীয়-স্বজন নেই। নিজে নিজের মত করে চলে। সকাল হলে ছুটে যায় সদরঘাটে। মানুষের সহযোগিতায় সে কাজ করে।

কথা হলে সে জানায়, এখন ঈদের সময় সব মানুষ বাড়িতে যাবে সে সুবাধে দু-একটি টাকা রোজগার করা সম্ভব। ব্যস্থ মানুষের পাশে থেকে তাদের একটু সহযোগিতা করতে পারি সে অনেক ভালো লাগে । বিনিময়ে খাবার যোগার করার মত কিছু টাকা পাই। এ টাকা দিয়ে ঈদ করবো।

এ ব্যাপারে একাধিক সমাজ সেবকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমাদের চারপাশে রাস্তাঘাট-রেলস্টেশন ও বিভিন্ন পথে পথে দেখি শিশুরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের কোন উদ্দেশ্যে নেই।এই পথ শিশু হওয়ার কারণ দুটি প্রথমত দারিদ্র, দ্বিতীয়ত পারিবারিক অশান্তি। এছাড়া বন্যা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, নদী ভাঙন প্রভৃতি কারণে সুবিধাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে।

তারা আরো বলেন, আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা এই পথ শিশুদের বেঁচে থাকা ও জীবন যাপনের জন্য কতটুকু সেবা নিশ্চিত করতে পেরেছে? আমরা যারা শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করিতারাই বা কি করতে পেরেছি? পথ শিশুদের রক্ষা করা ও জীবন যাপন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা আমাদেরই দায়িত্ব। এ ঈদে তাদের জন্য কিছু করতে পারাটা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক গবেষনা দেখা যায় দেশে প্রায় ৮০ লাখের বেশি পথ শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে ১০ লাখেরও বেশি। শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য মতে, পথশিশুদের ৮৫ ভাগই কোন না কোন মাদক সেবন করে। বিবিএস এর তথ্য মতে শিশুরা বড়দের মত কাজ করে ৮৫ শতাংশ , স্কুলে যায় না ২৪ লাখ শিশু, মজুরি পায় না ১৬ লাখ শিশু,পরিবারকে সহায়তা দিতে কাজ করে ৩০ শতাংশ শিশু, কৃষি ও কল কারখানায় কাজ করে ৬৫ শতাংশ শিশু।

ad