সব ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে তিস্তা

Kurigram river errision
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে তিস্তা নদীর ভাঙন সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যেই উপজেলার শতাধিক বসতবাড়িসহ কয়েকশ একর আবাদি জমি চলে গেছে তিস্তার পেটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর থেকে ভাঙন শুরু হলেও তা রোধে পাউবো কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় গত চারদিনের ব্যবধানে তিস্তা নদীতে হোকডাঙ্গার হিন্দু পাড়া ও ডাক্তার পাড়া গ্রামের ৫০টি পরিবারসহ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া, দালাল পাড়া, কড়াই পাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের আরও ৫০টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

জানাগেছে, গত কয়েকদিন থেকে ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে।  বর্তমানে নদীর পানি বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে ভাঙছে বসতভিটা।

জেলার উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের তিস্তার ভাঙন কবলিত হোকডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় নদী Kurigram river errision 2ভাঙনের ভয়াবহ রুপ। চোখের সামনেই ভেঙে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় পদ্ম বালা বর্মনীর বসতভিটা। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে দালাল পাড়া, কড়াই পাড়া গ্রাম। তিস্তা নদী অববাহিকার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নেফরা, নন্দু নেফরা, বজরা ইউনিয়নের পশ্চিম বজরা, বাধেঁর বাজার, বগলা কুড়া ও সাতালস্কর গ্রামেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত নাগড়াকুড়াটি বাঁধসহ ৫টি গ্রাম ও পাইকর পাড়া শ্যামলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২টি মন্দির।

হোকডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক আব্দুল বারী সহ ভুক্তভোগি অনেকেই জানান, গত বছর থেকে এসব এলাকায় ভাঙন শুরু হলেও কর্তৃপক্ষ ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় এ বছর ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।

থেতরাই ইউনিয়নের ডাক্তার পাড়া গ্রামের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য তারামনি রাণী জানান, ৭ দিন ধরে ওই এলাকায় তিস্তার ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ২ দিনের ভাঙনে তার বাড়িসহ পুরো হিন্দু পাড়া ও ডাক্তার পাড়া গ্রাম দু’টি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চলতি ভাঙনে শতাধিক পরিবার ও গত বছর ভাঙনে ৫০ পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে আরও ৫০টি পরিবার।

থেতরাই ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, ভাঙনরোধে আবেদন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা চাওয়া হয়েছে, তালিকা পেলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।

তবে স্থানীয়রা বলেন, ‘আমরা রিলিফ চাই না, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা চাই।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙনরোধে ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় ৭টি ‘টি-বাঁধ’ নির্মাণের জন্য ২৪২ কোটি টাকার প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে।

ad