সীমান্তে চামড়া পাচার রোধে বিজিবির কঠোর সতর্কতা

BGB
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।বেনাপোলের দক্ষিণ সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত খুলনা-২১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুর রহমান এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, যশোরের শার্শা উপজেলার শিকারপুর, কাশিপুর, গোগা, বেনাপোলের পুটখালি, দৌলতপুর, সাদীপুর, ঘিবা সীমান্তকে কুরবানির পশুর চামড়া পাচারের রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দৌলতপুর, পুটখালি ও গোগা সীমান্তের ইছামতি নদী দিয়ে চামড়া পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। চামড়া পাচার ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়তি সতর্কতা ও বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানোসহ নদীতে টহলের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবছর কোরবানীর ঈদে অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কোররবানির পশুর চামড়া সীমান্তের অবৈধ পথে ভারতে পাচার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বছর দেশের চামড়া ভারতে পাচার রোধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।

দেশের বাজারে নিম্নদর নির্ধারণ করায় এবার ব্যাপকহারে চামড়া পাচার হতে পারে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন। এমন আশঙ্কার প্রেক্ষিতে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে সীমান্তরক্ষীদের পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশও।

ঢাকার পর দেশে পশুর চামড়ার সবচেয়ে বড় মোকাম যশোরের রাজারহাট। সেখানে দুই শতাধিক আড়তে কমপক্ষে ২১ জেলার ব্যবসায়ীরা চামড়ার ব্যবসা করছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ মোকামের ওপর নির্ভরশীল প্রায় দশ হাজার মানুষ। কুরবানির ঈদে রাজারহাটে কোটি কোটি টাকার চামড়া কেনাবেচা হয়। ঈদের পর সীমান্তপথে চামড়া পাচার হতে যেতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

রাজারহাট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আশরাফ আলী জানান, ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তের পাইকাররা রাজারহাটে আসেন চামড়া কিনতে। তারা প্রধানত ঢাকার ট্যানারিগুলোতে চামড়া সরবরাহ করেন। কিন্তু রাজারহাটের প্রায় ৩০০ ব্যবসায়ীর প্রায় দশ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বাইরের ব্যবসায়ীদের কাছে। ট্যানারি মালিকরা টাকা না দিলে এবার ভারতে চামড়া পাচার হয়ে যেতে পারে।

সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোমিনুল মজিদ তুষার বলেন, গত বছর একটা গরুর চামড়া সংরক্ষণে ৭০-৭৫ টাকার লবণ লেগেছে। লবণের দাম বাড়ায় এবার ১৫০ থেকে ২০০ টাকা লাগবে।

বাগআঁচড়ার চামড়া ব্যবসায়ী শেখ সহিদুল ইসলাম বলেন, পেশাদার চামড়া ব্যবসায়ীদের পুঁজি সংকটের সুযোগ নেয় চোরাকারবারিরা। পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে তারা বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে চামড়া সংগ্রহ করে।

ad