সুফিয়া কামাল হলে ৩ ছাত্রীকে নির্যাতন, ছাত্রলীগ নেত্রী বহিষ্কার

Sufia Kamal Hall, 3 students, tortured, Chhatra League leader, expelled,
ad

জাগরণ ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের তিন ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে ওই হলের তিন ছাত্রীকে নিজ রুমে ডেকে নিয়ে এশা নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করেন ওই হলের ছাত্রীরা।

এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। রাতভর চলে উত্তেজনা। ছাত্রী নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কবি সুফিয়া কামাল হলের সামনে এসে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ ছাড়া ছাত্রী হল থেকে সাধারণ ছাত্রীরা বের হয়ে এসে বিক্ষোভ করেন। তারা ইফফাত জাহানকে বহিষ্কারের দাবিতে স্লোগান দেন।

Sufia Kamal Hall, 3 students, tortured, Chhatra League leader, expelled,

শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে ছাত্রলীগ, পরে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইফফাতকে বহিষ্কার করা হয়। ভোররাত সোয়া ৪টার দিকে আন্দোলনকারীরা হলে ফিরে যান। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

রাত ১২টার দিকে ইফফাত হলের তিন ছাত্রীকে একটি কক্ষে ডেকে নির্যাতন করেন। নির্যাতনের শিকার ছাত্রীদের চিৎকার শুনে সেখানে যান উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোর্শেদা খানম। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মোর্শেদা কক্ষের জানালার কাচে লাথি মারেন। এতে তাঁর পা কেটে যায়।

খবর পেয়ে অন্য ছাত্রীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ইফফাতকে মারধর করে তাঁকে আটকে রাখেন। ছাত্রী নির্যাতন করায় তার বহিষ্কারের দাবিতে বাইরে বিক্ষোভ করতে থাকেন অনেকে। ‘নির্যাতনকারীর কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘মরতে নয়, পড়তে চাই’, ‘বোনের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’—এসব স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী সাফিয়া শারমিন বলেন, কিছু মেয়ে চিৎকার করছে। কিছু মেয়ে নিচে নেমে এলে তাদেরকে বলছে- ‘তেলাপোকা দেখে চিৎকার দিয়েছে, কিছু হয় নাই।’ কিন্তু ফ্লোরে-সিঁড়িতে রক্ত দেখে হলের মেয়েরা একত্রিত হয়। এরমধ্যে এশা ওই মেয়েদের নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। তারপর হলের হাউস টিউটর ম্যামরা এসে মেয়েটাকে হাসপাতালে পাঠায় এবং হলের মাঠে সব মেয়েরা তখন ক্ষ্যাপা।

এই পরিস্থিতিতে রাত পৌনে ১টার দিকে প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী হলে ঢোকেন। রাত আড়াইটার দিকে প্রক্টর বেরিয়ে এসে নির্যাতনের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান। ‘নির্যাতিত’ শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থাও তিনি করেন।

ঘটনার পর মধ্যরাতেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইফফাত জাহানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ইফফাত জাহানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হবে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান রাতে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি অবহিত হলাম, ফিলসফি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী, ওর নাম হল ইফফাত জাহান এশা, ও নাকি আরেকটি মেয়েকে মেরেছে। এবং বেশ ভালোভাবেই। সোশাল মিডিয়াতে দেখলাম যে তার একটা ছবি এসেছে।

তিনি বলেন, একজন ছাত্রীর ওপর আরেকজন ছাত্রী নির্মামভাবে যে আচরণটা করেছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। হল প্রশাসনকে বলেছি, তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হল। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করব, তদন্ত কমিটিও ঠিক করে দেবো। প্রকৃত কি ঘটনা ঘটেছিল সেটি যেন আসে, কারণ সকরের জন্য একটি শিক্ষা রাখতে চাই।

এদিকে, ছাত্রী নির্যাতনের খবর পেয়ে ছাত্ররা সুফিয়া কামাল হলের দিকে যেতে চাইলে তাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন ছাত্ররা।

জিয়া হল, বিজয় একাত্তর হলসহ বিভিন্ন হলের ছাত্ররা ছাত্রলীগের বাধা এবং হলের গেট ভেঙে বাইরে বের আসেন বলে খবর পাওয়া যায়।

ad