সড়কে চরম বাস সংকট, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

bus in dhaka
ad

জাগরণ ডেস্ক: নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের জেরে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘট শেষে গতকাল রাজধানীর সড়কে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। তবে খুবই কম সংখ্যক বাস সড়কে চলাচল করতে দেখা গেছে। সংখ্যায় কম থাকায় যাত্রীরা বাসে উঠতে রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছে। অনেকেই বাস না পেয়ে হেঁটেই গন্তব্যস্থলে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় পরিবহন মালিকরা।

যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর এক একটি বাস আসছে। বাসগুলো মূল স্টপেজ থেকেই ভর্তি হয়ে আসছে। যে কারণে যাত্রীরা বাসে উঠতে পারছে না। অনেক বাস আবার তাদের গেইট বন্ধ করে রেখেছে। তারা কাউন্টার থেকে যে যাত্রী নিয়েছে এরপর আর যাত্রী নিচ্ছে না।

কয়েকজন বাস চালকের সাথে কথা বলে জানাগেছে, যেসব বাসের ফিটনেস ও কাগজপত্র নেই সেসব বাস সড়কে নামাচ্ছেন না মালিকরা। লাইসেন্স বিহীন চালকরা ভয়ে বাস চালাতে রাজি হচ্ছে না। যে কারণে সড়কে বাসের সংখ্যা কম।

এদিকে, নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ির লাইসেন্স ও ফিটনেস পরীক্ষা করছে ট্রাফিক পুলিশ। তারা কাগজপত্র বিহীন বাস, সিএনজি ও মোটরসাইকেল আটকে মামলা দিচ্ছে। বেশ কয়েকটি বাসকে ডাম্পিংয়ে পাঠাতেও দেখা গেছে।

ধানমন্ডি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শুধুমাত্র এফটিসিএল, মৈত্রি ও মিডলাইন বাস চলছে শুধু। তাও সংখ্যায় খুবই কম। মোহাম্মদপুর থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো অন্য স্টপেজে থামছে না। যে কারণে ধানমন্ডির যাত্রীরা বাসে উঠতে পারছে না।

মিরপুর থেকে বেশ কিছু পরিবহন কোম্পানির বাস ছাড়লেও তা সংখ্যায় খুবই সীমিত। চালকরা বরছেন এ রুটের যেসব বাসের কাগজপত্র নেই তা ছাড়ছে না মলিকরা।

এছাড়া গুলিস্তান থেকে রায়েরবাগ পর্যন্ত চলাচল করা শ্রাবণ পরিবহনের বাসও চলাচল করছে। গুলিস্তান থেকে মিরপুর রুটের ট্রান্স সিলভা, সদরঘাট থেকে টঙ্গী চলাচল করা সুপ্রভাত, যাত্রাবাড়ী থেকে মিরপুর রুটের শিখর, আব্দুল্লাহপুর থেকে মোহাম্মদপুর রুটের তেতুলিয়া, পল্লবী থেকে নিউ মার্কেট রুটের মিরপুর লিঙ্ক পরিবহনের বাস চলাচল করতে দেখা যায়।

গত ২৯ জুলাই (রবিবার) রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকে রাজধানীর সড়কে অবস্থান করে বেপোরোয়া বাস চালককে ফাঁসি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালনা বন্ধসহ ৯ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এর এক পর্যায়ে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দেন বাস মালিকরা।

ad