মাহে রমজানের ফজিলত

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি হলো রমজানের রোজা। আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার ওপর এটি ফরজ করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,


(يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ ١٨٣ )


{হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।} [সূরা আল বাকারা:১৮৩]


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,‘ইসলাম পাঁচটি বিষয়ের ওপর নির্মিত হয়েছে’ এ-পাঁচটির মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন( রমজানের রোজা)


রমজানের ফজিলত


১ - রমজান মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে শয়তানকে শিকল পরিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং মানুষের হৃদয়ে ভালো কাজ করার প্রেরণা জাগ্রত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন রমজান প্রবেশ করে আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়, আর শয়তানদেরকে শিকল পরিয়ে দেয়া হয়।’


(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)


২- ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় যে ব্যক্তি রমজান মাসে সিয়াম-কিয়াম চর্চা করে আল্লাহ তার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় রোজা রাখে তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)


অন্যএক হাদীসে এসেছে,‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় রমজানের রাতযাপন করে আল্লাহ তাআলা তার অতীতের গুনাহসমূহ মাফ করে দেন।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)


৩- মাহে রমজানে লায়লাতুল কদর রয়েছে, যার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:


(لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ ٣)


{লায়লাতুল কদর এক হাজার মাস থেকে উত্তম।} [ সূরা আল কাদ্র: ৩]


আর যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করবে তার অতীতের গুনাহসমূহ আল্লাহ তাআলা মাফ করে দিবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করল আল্লাহ তাআলা তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দিলেন।’(বর্ণনায় মুসলিম)


৫- রমজান মাস কুরআনের মাস। এ মাসেই নাযিল হয়েছে মহিমান্বিত কুরআন। তাই এ মাসে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা প্রয়োজন। আল্লাহ তাআলা বলেন:


(شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ هُدٗى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٖ مِّنَ ٱلۡهُدَىٰ وَٱلۡفُرۡقَانِۚ )


{রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়েত স্বরূপ এবং হিদায়েতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।} [ সূরা আল বাকারা:১৮৫]


৬ - রমজান মাস সদকা ও দানখয়রাতের মাস, ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবথেকে বেশি দানশীল ছিলেন, আর তিনি মাহে রমজানে সমধিক দানশীল হতেন যখন জিব্রীল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন। আর জিব্রীল রমজানের প্রতি রাতেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁকে কুরআন চর্চা করাতেন। যখন জিব্রীল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি দান-খয়রাতে উন্মুক্ত বাতাস থেকেও অধিক বেগবান হতেন।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)। সূত্র: ইত্তেফাক