ক্যান্সার প্রতিরোধ করে আম

ad

জাগরণ ডেস্কঃ আম খুব সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর রসালো একটি ফল। এমন মানুষ পাওয়া কষ্টকর যারা আম খেতে পছন্দ করেন না। সব বয়সের মানুষের কাছেই পাকা আম খুব প্রিয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাকা আমের চেয়ে কাচা আমের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি।

আমের মৌসুম শুরু হওয়ায় বাজারেও এখন কম-বেশি দু’ধরনের আমই পাওয়া যাচ্ছে। তবে কাচা কিংবা পাকা যেটাই হোক না কেন দুটোই শরীরের জন্য সমান উপকারী।

আম উচ্চ প্রোটিন, ভিটামিন এ, সি, বি৬, কে, ফোলিক এসিড, আঁশ ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ একটি ফল। এতে কপার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট যেমন বিটা ক্যারোটিন ও জিয়াজেন্থিন রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, আম খাওয়ার ফলে স্থুলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এছাড়া ত্বক ও চুলের রঙের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, দেহের শক্তি বৃদ্ধির জন্য, কোলন ক্যান্সার রোধে, হাড় ও হজম শক্তির উন্নত করার ক্ষেত্রে এই ফলের ভূমিকা রয়েছে। কাজেই সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত আম খান।

এগুলো ছাড়াও আমের আরও নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে-

ক্যান্সার প্রতিরোধে
গবেষকরা বলেছেন, আমে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকার ফলে এটা কোলন, স্তন, লিউকেমিয়া এবং প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে।

হজমে সাহায্য করে
আম প্রচুর খাদ্য আঁশ, ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর। এতে থাকা এনজাইম প্রোটিনকে ভাঙ্গতে সাহায্য করে। আমে থাকা আঁশ হজমে এবং বর্জ্য ত্যাগ করতে সাহায্য করে।

এসিডিটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে
খাদ্যাভ্যাসের কারণে বেশিরভাগ মানুষই এসিডিটির সমস্যায় ভুগে থাকেন। কাঁচা আম খেলে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া ঔষধ গ্রহণ ছাড়াই আপনার হজমে সাহায্য করবে কাঁচা আম।

কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়
আমে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি, পেকটিন ও আঁশ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। দেহে তরল এবং কোষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যৌগ পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস হচ্ছে তাজা আম যা উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

পানির ঘাটতি রোধ করে
গরমে আমাদের শরীর থেকে অনেক পানি বের হয়ে যায়। শরীরের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য এবং পানির ঘাটতি পূরণের জন্য সামান্য লবণ দিয়ে কাঁচা আম খান। দেখবেন পানির ঘাটতি পূরণ হবে।

পেটের সমস্যা দূর করে
গরমের সময় বেশিরভাগ মানুষের পেটে সমস্যা হতে দেখা যায়। ডায়রিয়া, আমাশয় ও বদহজমের মত সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করে। খাদ্য হজমে সহায়তা করে কাঁচা আম। অন্ত্রকে পরিষ্কার করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয় কাঁচা আম।

ওজন কমায়
আমে অনেক ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে। আঁশ জাতীয় খাবার হজমক্রিয়াতে সাহায্য করার ফলে তা দেহের বাড়তি ক্যালরি ক্ষয় করতে সাহায্য করে। এছাড়া আম খেলে ক্ষুধা কমে এবং কোলেস্টেরল ও গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
 
স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া প্রতিরোধ করে

কাঁচা আম খেলে আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি সরবরাহ করে। স্কার্ভি, অ্যানেমিয়া ও মাড়ির রক্ত পড়া কমায় কাঁচা আম। এটি শুধু মাড়ির রক্ত পড়াই বন্ধ করে না, নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। কাঁচা আমের পাউডার বা আমচুর স্কার্ভি নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়
কাঁচা আম আলফা ক্যারোটিন ও বিটা ক্যারোটিনের মত ফ্লাভনয়েড সমৃদ্ধ। এই সব উপাদান দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে ও দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়।

লিভারের সবচেয়ে ভালো বন্ধু
লিভারের রোগ নিরাময়ের একটি প্রাকৃতিক উপায় হচ্ছে কাঁচা আম। যখন কাঁচা আম চিবানো হয় তখন পিত্ত থলির এসিড ও পিত্ত রস বৃদ্ধি পায়। এর ফলে যকৃতের স্বাস্থ্য ভালো হয় এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন পরিষ্কার করে।

তারুণ্য ধরে রাখে
আমে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে যার ফলে ত্বক সতেজ ও টানটান হয়। আম খেলে সূর্যের আলোতে ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের ক্ষতির পরিমাণ কমে যায়। এছাড়া পাকা আম ত্বকে মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করলেও লোমকূপে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
শুধু আম নয় আমের পাতাও বেশ উপকারী। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা যদি ৫-৬টি আম পাতা ধুয়ে একটি পাত্রে সেদ্ধ করে নিয়ে সারারাত রেখে সকালে এর ক্বাথ ছেকে পান করেন তাহলে এটা ইন্সুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে। এছাড়া আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (৪১-৬০) কম বলে এটা যদি মাঝে মাঝে বেশি খাওয়া হয়ে যায় তবে সুগারের মাত্রা খুব বেশি বাড়বে না।

অ্যাজমা প্রতিরোধে
যারা নিয়মিত আম খেয়ে থাকেন তাদের অ্যাজমা হওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি আমের একটি চমকপ্রদ স্বাস্থ্য উপকারিতা। এতে থাকা উচ্চ বিটা ক্যারোটিন অ্যাজমা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খররৌদ্রে একটি আমের রসের সাথে সামান্য পানি, এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে খেলে তাৎক্ষণিকভাবে শরীর ঠাণ্ডা হয় এবং হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ হয়।

ad