ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীসহ ১১ মন্ত্রী আমিরাতের হাতে অবরুদ্ধ

ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সেনাবাহিনী ইয়েমেনের প্রত্যন্ত দ্বীপ সোকোত্রার সমুদ্র ও বিমানবন্দর দখলে নেয়ার একদিনের মধ্যেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আবেদ বিন দাঘরসহ আরও ১০ মন্ত্রীকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। ওই সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আবেদ বিন দাঘর আরও ১০ মন্ত্রীর সঙ্গে এই দ্বীপেই অবস্থান করছিলেন।

শুক্রবার (৪ মে) সমুদ্র ও বিমানবন্দর দখলে নেয়ার সময় ইউএই সেনা সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীদের দ্বীপ ত্যাগে বাধা দেয়।

সুকোত্রা দ্বীপটি ৯৯ বছরের জন্য ইয়েমেনের সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়েছে ইউএই। এরই অংশ হিসেবে দ্বীপটি দখলে নেয় আরব আমিরাতের সেনারা।

এর আগের দিনই ওই এলাকায় ইউএই তার চারটি সামরিক বিমান এবং শতাধিক সেনা সদস্য মোতায়েন করেছিল বলে জানিয়েছেন ইয়েমেনের এক সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইয়েমেনি সরকারপ্রধান উপস্থিত থাকার পরও সোকোত্রা দ্বীপের বিমান ও সমুদ্রবন্দর দখল করেছে ইউএই। দেশটা সোকোত্রায় যা করছে তা আগ্রাসন ছাড়া আর কিছু নয়।’

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সৌদি আরব সোকোত্রায় তদন্তকারী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও ওই সরকারি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে আল জাজিরা।

সোকোত্রা ইউনেস্কোর বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ঘোষিত একটি দ্বীপ। দ্বীপটি প্রায় ৬০ হাজার মানুষের আবাস। এখানে তিন হাজার মিটার লম্বা একটি রানওয়ে রয়েছে, যা ফাইটার জেট এবং বড় বড় সামরিক উড়োজাহাজের চলাচলের জন্য খুবই উপযুক্ত।

সম্প্রতি ইউএই সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ইয়েমেন সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য সোকোত্রা দ্বীপ লিজ নেয়। বর্তমানে সেখানকার দাপ্তরিক ভবনগুলোতে ইউএই’র পতাকা এবং তার যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহইয়ানের ছবি শোভা পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।

এদিকে গত তিন বছর ধরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে একসঙ্গে লড়াই করে আসছে সৌদি আরব-ইয়েমেনের সরকার ও আরব আমিরাত। কিন্তু সম্প্রতি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলেও ইউএই প্রভাব বিস্তার শুরু করলে দেশটির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট হাদির সম্পর্কে ফাটল ধরে।

শুধু তাই নয়, হুতি বিদ্রোহী দমনের নামে সংযুক্ত আরব আমিরাত দেশটিতে নিজেদের বলয় সৃষ্টি করছে। এমনকি কিছু কিছু এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ad