গণহত্যার দায়ে সুচি-সেনাপ্রধান দোষী সাব্যস্ত

Genocide Sui - Chief of the Army, Guilty,
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক গণআদালতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গণহত্যার অপরাধে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি এবং দেশটির সেনাপ্রধানসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে অনুষ্ঠিত এ শুনানিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ট্রাইব্যুনালের সাত সদস্যের বিচারক প্যানেল এ রায় দেন।

এ রায়ের মধ্য দিয়ে গণআদালতে সুচিই প্রথম কোনো নোবেলজয়ী, যিনি ব্যতিক্রমী এ আদালতে বিচারের সম্মুখীন ও দোষী সাব্যস্ত হলেন।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা, কাচিন, কারেনসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ২০০ মানুষের জবানবন্দি শুনে এবং বিভিন্ন তথ্যচিত্র ও বিশেষজ্ঞ মতামত পর্যালোচনা করে রোমভিত্তিক সংগঠন পার্মানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনালের (পিপিটি) সাত বিচারকের প্যানেল এই প্রতীকী রায় ঘোষণা করে।

কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে আর্জেন্টাইন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলারসের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারক দানিয়েল ফিয়েরেস্তেইন রায় পড়ে শোনান।

রায়ে তিনি বলেছেন, মিয়ানমার সরকার গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। আদালত ঘোষণা দিচ্ছে কাচিন ও অন্যান্য মুসলিম গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অপরাধে মিয়ানমার দোষী।

রায়ের ওপর ভিত্তি করে ১৭টি প্রস্তাবনাও দিয়েছেন আন্তর্জাতিক গণ আদালত। রায়ের পর প্রস্তাবনাগুলো পড়ে শোনান বিচারক গ্রিল এইচ বোয়েরিংগার।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে, মিয়ানমার সরকারকে সেদেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর সহিংসতা বন্ধ করতে হবে, রোহিঙ্গা ও কাচিন সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনকে সেখানে যাওয়ার ভিসা ও স্বাধীনভাবে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে, সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব প্রদানের ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার যে পক্ষপাতমূলক আইন করেছে সংবিধান সংশোধন করে তার পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাসহ সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলকে ভিসা ও অবাধে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই দেশটির সংবিধান সংশোধন করতে হবে এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নাগরিকত্ব দিতে সব পক্ষপাতমূলক আইন প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মতো যেসব দেশ পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের আর্থিক সাহায্য দিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

বিচারক গ্রিল এইচ বোয়েরিংগার আরও জানান, শুধু রায় দিয়েই বসে থাকবেন না আদালত। গণহত্যার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন, রায়ের কপি ও প্রস্তাবনাগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে পাঠিয়ে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হবে।

রোমভিত্তিক এই আদালতের নাম পার্মানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল (পিপিটি)। বিগত শতাব্দীর ষাটের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ব্যাপক হারে যুদ্ধাপরাধ করে। তখন ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য যে ধারণা দিয়েছিলেন, তার প্রেক্ষাপটেই পিপিটি প্রতিষ্ঠিত। এ আদালত মূলত যুদ্ধাপরাধের শিকার মানুষের ভাষ্য তুলে ধরে বিশ্ব পরিমণ্ডলে।

ad