গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত

Gaza, 17 Palestinians, killed,
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের ভূমি দিবসে ২৭ বছর বয়সী কৃষক ওমর সামুরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে সমবেত বিক্ষুব্ধদের ওপর ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ।

শুক্রবার (৩০ মার্চ) গাজার ইসরায়েল সীমান্তের ছয়টি স্থানে হওয়া এই বিক্ষোভ হয়। ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামের এই বিক্ষোভ চলাকালে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

শনিবার (৩১ মার্চ) এই ঘটনায় একদিনের শোক ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিন সরকার। একদিনের শোক ঘোষণা করায় সব স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

ফিলিস্তিনিদের এ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন স্বয়ং গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া এবং হামাসের সামরিক শাখার প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার। এসব নেতার জনসমক্ষে আসা বিরল ঘটনা।

সীমান্ত বেষ্টনী বরাবর ৫ টি জায়গায় সমবেত হয়ে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূমিতে ফেরার আকুতি জানায়, ১৯৪৮ সালে যা ইসরায়েলের দখলে চলে গিয়েছিল।

Gaza, 17 Palestinians, killed,

ছয় সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে তারা সেখানে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। প্রথম দিনের বিক্ষোভে অন্তত ১৭ হাজার ফিলিস্তিনি অংশ নিয়েছে বলে ধারণা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর। তারা বলছে, দাঙ্গা শুরু হওয়ার পরই গুলি ছোড়া হয়েছে।

বিক্ষোভের উদ্দেশ্যে সীমান্তের কাছাকাছি ফিলিস্তিনিরা পাঁচটি ক্যাম্প করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ফিলিস্তিনিদের যে আবাসগুলো এখন ইসরায়েলের অধিকৃত এলাকার মধ্যে পড়েছে, সেখানে যেন অধিগ্রহণের ফলে ঘরহারা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ফিরে যেতে দেয়া হয়, তার দাবিতে বড় আকারে চলছে এই আন্দোলন।

১৯৪৮ সালের এই দিনে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাদের বাড়িঘর ফেলে শরণার্থী শিবিরে বা অন্য স্থানে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল। কারণ ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর তাদের বাড়িঘর দখল হয়ে যায়, তারা বিতাড়িত হয়।

সেই দিবসটি স্মরণে এবারও ছয় সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। এবারের বিক্ষোভের মূল স্লোগান ছিল ‘গ্রেপ মার্চ টু রিটার্ন’ বা ‘নিজের ভূমিতে ফিরে যাওয়ার মিছিল’। এর অংশ হিসেবেই গতকাল মিছিল নিয়ে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েল সীমান্তের দিকে যাচ্ছিল। মিছিলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি অংশ নেয়। ছয় সপ্তাহব্যাপী এই বিক্ষোভ শেষ হবে আগামী ১৫ মে।

২০ লাখ জন অধ্যুষিত গাজার প্রায় ১৩ লাখ মানুষ হয় শরণার্থী অথবা শরণার্থীদের বংশধর। আজ যেটার নাম ইসরায়েল, সেখানে নিজ ভূখণ্ডে ফেরার দাবিতে তাদের শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিক্ষোভের আয়োজকরা।

গাজা উপত্যকার পূর্বাঞ্চলে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়েহ ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণ দিনের পর দিন দেখিয়ে দিয়েছেন তারা বড় ধরনের কিছু করার জন্য উদ্যোগ নিতে পারেন। পুরো ফিলিস্তিনকে ফিরে পাওয়ার পদক্ষেপের সূচনা এই মিছিল।

হামাসের প্রায় এক লাখ সক্রিয় সমর্থক এবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করতে পারেন বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হামাস নেতাদের হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে।

এদিকে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্বাচারে গুলি চালিয়ে ১৬ জনকে হত্যার ঘটনায় শুক্রবারই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আহ্বান জানিয়েছেন। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় এ খবর জানানো হয়।

জর্ডানের সরকারও বিষয়টিকে ইসরায়েলকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে। জর্ডান সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ আর মোমানি বলেন, গাজায় আজ যা হয়েছে তার জন্য দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলই দায়ী। ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার নষ্ট করে তাদের বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র ব্যবহার করার কারণেই এমনটা হয়েছে।

ad