গুহায় আটকে পড়া ফুটবলাররা পানিতে ডুবে যেতে পারে

Cave, stuck, footballers,
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ডের একটি গুহায় দুই সপ্তাহ ধরে আটকে থাকা কিশোর ফুটবলারদের জীবন এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গুহার ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকহারে কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় গুহায় আটকা পড়া ফুটবলারদের উদ্ধারে হাতে সময় রয়েছে মাত্র তিন থেকে চারদিন।

শনিবার (৭ জুলাই) থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই প্রদেশের গভর্নর ন্যারংস্যাক ওসোত্তানাকর্ন বলেছেন, আজও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে গুহার ভেতরে পানির স্তর এখনও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েকদিন তীব্র বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে বর্ষণ তীব্র হওয়ার আগে ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধারে হাতে অল্প কয়েকদিন রয়েছে।

গভর্নর ন্যারংস্যাক ওসোত্তানাকর্ন বলেছেন, একটি কর্মপরিকল্পনা ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযানের জন্য আগামী তিন থেকে চারদিন হচ্ছে উপযুক্ত সময়। শনিবার গুহার পাশে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা যদি বেশি দেরি করে ফেলি, তাহলেও আমরা জানি না কেমন বৃষ্টিপাত হবে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত বিপদ হচ্ছে, উদ্ধার কাজে নিয়োজিত শত শত উদ্ধারকারীর শ্বাসত্যাগের কারণে গুহার ভেতরে কার্বন মনো অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। আমাদের কাছে যত পরিমাণেই অক্সিজেন থাকুক না কেন, আমরা বাঁচাতে পারবো না (অতিরিক্ত কার্বন মনো অক্সাইডে)। কারণ তাদের রক্ত বিষাক্ত হয়ে যাবে।

তবে কিশোর ফুটবলাররা সুস্থ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজও শিশুরা সুস্থ আছে। তারা কথা বলছে, মজা করছে। তবে তাদের সামান্য কিছু জখম রয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত সঠিক খাবার পায়নি; তবে তাদের অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত বিশেষ খাবার দেয়া হয়েছে।

এদিকে, গুহার ভেতর থেকে কিশোরদের হাতে লেখা চিঠি শনিবার প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে কিশোররা তাদের পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছে, তারা ভালো আছে। চিঠিগুলোতে ছিল আবেগ, পরিবারের সদস্যদের দেখতে চাওয়ার আকুতি ও নানা আবদার। থাই নেভি সিল চিঠিগুলোর ছবি প্রকাশ করেছে।

চিঠিতে কিশোররা লিখেছে, ‘দুশ্চিন্তা করো না। আমরা ঠিক আছি। আমরা তাড়াতাড়ি বের হতে চাই এবং অনেক কিছু খেতে চাই। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে চাই। টিচার, দয়া করে আমাদেরকে বেশি করে বাড়ির কাজ দেবেন না!

অপরদিকে ফুটবল দলের ২৫ বছর বয়সী কোচ চিঠিতে বলেন, এখানে আটকে থাকা সকল শিশু ভালো রয়েছে। আমি তাদের অনেক ভালো যত্ন নিচ্ছি। নৈতিক সমর্থন জানানোর জন্য আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং এসব শিশুর বাবা-মার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

ad