গুহায় ফুটবলারদের উদ্ধার অভিযানে ‘মিনি সাবমেরিন’

Cave, rescue operation, 'mini submarine'
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ডের একটি গুহায় গত ২৩ জুন থেকে আটকে থাকা ১২ জন কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধারে চালানো অভিযানে এখন পর্যন্ত চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি আট ফুটবলার এবং কোচকে উদ্ধারে এবার বিশেষ সাবমেরিন ব্যবহার করতে পারে উদ্ধারকারী দল।

সোমবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে আবারও অভিযান শুরু হয়। এর আগে রবিবার (৮ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকালে অভিযানে চারজনকে উদ্ধার করার পর ওইদিনের অভিযান শেষ হয়।

টাইম ম্যাগাজিনের খবর অনুযায়ী মাস্ক বোরিং কোম্পানির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ছোট্ট এই সাবমেরিনটিকে ‘কিড-সাইজ সাবমেরিন’ বলা যায়। সরু জায়গার মধ্যদিয়ে যা চলতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলসের একটি সুইমিং পুলে সেটি পরীক্ষা করেও দেখা হয়েছে।

সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকারী দল এই বিশেষ সাবমেরিন চেয়ে পাঠিয়েছে। যদি কাজে লাগানো যায় তবে কিশোর ফুটবলারদের উদ্ধার করবে মিনি সাবমেরিনই।

বিবিসি জানায়, প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে শিশুদের বাইরে আনার জন্য ডুবুরিরা নানা ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছেন। প্রতিটি শিশুর সঙ্গে দুজন করে ডুবুরি থাকছেন।

১৩ জন বিদেশী ডুবুরি এবং থাইল্যান্ডের রাজকীয় নেভির পাঁচজন সিল সদস্য আছেন এই বিশেষ উদ্ধারকারী দলে। তারা গুহার ভেতরে এমন এক জায়গা থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধার করবেন যেখানে সাঁতরে যেতে হবে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীন এবং ইউরোপ থেকে অংশ নেয়া ডুবুরিদের অপর একটি দল গুহার প্রবেশপথ চেম্বার-৩ এ অবস্থান করছেন। চেম্বার-২ এবং চেম্বার-৩ এর মাঝে সংকীর্ণ ও উঁচু-নিচু জলমগ্ন পথে রশি বসিয়ে সহায়তা করবে এই দলটি।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ বেড়াতে গিয়ে উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং রাই এলাকার থাম লুয়াং নং নন গুহায় আটকা পড়ে। কিশোরদের বয়স ১১ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। গুহাটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম গুহার একটি।

অ্যাডভেঞ্চারের নেশা আর বন্ধুর জন্মদিনে পালনে সেখানে যাওয়া। আচমকাই প্রাকৃতিক বিপর্যয়। গুহার সামনে পুরো অংশ জলমগ্ন। যা পেরিয়ে আসার সাধ্য তাদের ছিল না। একমাত্র প্রশিক্ষিত সাঁতারুরাই তা পারবেন। ফলে ওই গুহাতেই আটকা পড়েন ১২ জন কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ।

এখানে যাত্রাপথের দিক খুঁজে পাওয়া কঠিন। ভারী বর্ষণ আর কাদায় থাম লুয়াংয়ের প্রবেশ মুখ বন্ধ হয়ে গেলে তারা আটকা পড়ে। নিখোঁজের পর গুহার পাশে তাদের সাইকেল এবং খেলার সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যায়।

নিখোঁজের নয়দিন পর ২ জুলাই দুইজন বৃটিশ ডুবুরি চিয়াং রাই এলাকার থাম লুয়াং নং নন গুহায় তাদের জীবিত সন্ধান পান। পরে থাইল্যান্ড নৌ বাহিনী গুহায় আটকা পড়া কিশোরদের ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। ডুবুরিরা তাদের টর্চলাইটের আলো ফেলে ১৩ জনকেই দেখতে পায়। সে সময় তারা খুব ক্ষুধার্ত ছিল।

ad