গুয়াতেমালায় অগ্ন্যুৎপাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫

Guatemalan, volcano, number of deaths increased, 65,
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫-তে দাঁড়িয়েছে। প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রবিবার (৩ জুন) দেশটির রাজধানী গুয়াতেমালা সিটির প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে আগ্নেয়গিরিটি ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। আগ্নেয়গিরিটি থেকে কালো ধোঁয়া ও ছাই উদগীরণ হচ্ছে। স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ১৯৭৪ সালের পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ।

লাভার স্রোতে চাপা পড়া গ্রাম এল রোদেওর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও লাশ উদ্ধার করার পর নিহতের ঘোষিত সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে গুয়াতেমালার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা, কনরেড। এ পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে অতি অল্প সংখ্যকের পরিচয়ই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

নিখোঁজদের সন্ধানে দমকাল বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি ও উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। গুয়াতেমালার সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার কাজে দমকল বাহিনীকে সহায়তা করছে। অগ্ন্যুৎপাতের ভয়াবহ প্রকোপ থেকে বাঁচতে অস্থায়ী আশ্রয়েকেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন হাজার হাজার বাসিন্দা।ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অস্থায়ীভাবে তৈরি মর্গ ও শহরগুলোর ছাইয়ে ঢাকা সড়কে মরিয়া হয়ে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে ফিরছিল পরিবারগুলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অগ্ন্যুৎপাতের শুরুতে আগ্নিয়গিরির মুখ থেকে ছাই, বিষাক্ত গ্যাস ও গলিত পাথর বের হয়। আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে নির্গত ছাই প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচুতে উঠেছিল। ফলে রাজধানী গুয়েতেমালা সিটির বিমানবন্দরে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকটি গ্রামের ভেতর দিয়ে লাভার নদী বয়ে যেতে দেখা যায়।

তবে এখন তা থেমে গেছে। এল রোডিও, সান মিগুয়েল লস লোটসসহ কয়েকটি গ্রামকে পুরো গ্রাস করে ফেলেছে লাভার স্রোত। এতে একের পর এক ধ্বংস হয়ে গেছে বাড়িঘর এবং ফসলি খেত।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (কনরেড) জানিয়েছে, ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ। অগ্ন্যুৎপাতের ধোঁয়া ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

ad