জাতিসংঘে বক্তব্যে ‘রোহিঙ্গা’ ব্যবহার করেননি সুচির প্রতিনিধি

Van thio
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে অং সান সুচির বক্তব্যই তুলে ধরেছেন মিয়ানমারের প্রতিনিধি ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিও। সাধারণ অধিবেশনে বক্তৃতাকালে তিনি একবারও রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেননি। এছাড়া, মিয়ানমারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সময় বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) দেশটির দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিও জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই যে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে রাখাইনে আর কোনো সহিংসতা হয়নি।

হেনরি ভ্যান থিও বলেন, রাখাইন রাজ্যের মুসলিমরা এখনো বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে, এ খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। কেন তাঁরা বাংলাদেশে যাচ্ছে, সেটা খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, মিয়ানমার চেষ্টা করছে রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমানদের পরিস্থিতির উন্নতি করার। সেখানে কয়েক দশক ধরে চলা অবিশ্বাস ধীরে ধীরে দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে সুচি বলেছিলেন, বহু মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে এবং আমরা এর কারণ অনুসন্ধান করছি। যারা পালিয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে চান এবং যারা থেকেছে, তাদের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান তিনি।

ভাষণে সুচি একবারও রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেননি। তিনি রোহিঙ্গাদের মুসলিম সংখ্যালঘু বলেই সম্বোধন করেছেন। এছাড়া তিনি সেনা নির্যাতন ও গণহত্যার কথা অস্বীকার করে সন্ত্রাস দমন অভিযানের কথা বলেন। বুধবার জাতিসংঘে ঠিক একই কথা বলেন সুচির প্রতিনিধি দেশটির দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিও। এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত ও সেনা অভিযান বন্ধে আগ্রহী না।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা রাখাইন রাজ্যে দুই ডজনের বেশি পুলিশ ও সেনাক্যাম্পে হামলা চালায়। এ সময় ১২ নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। এর পরই বিদ্রোহীদের ধরার নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ করছে, বাড়িঘরে আগুন দেয়া শুরু করে। সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে অন্তত সাড়ে চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

এ নিয়ে সারা বিশ্বে সমালোচনার মুখে পড়ে মিয়ানমার সরকার। দেশটির নেত্রী অং সান সু চি নির্ধারিত জাতিসংঘের অধিবেশনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু জাতিসংঘের অধিবেশন যেদিন শুরু হয়, সেদিন তিনি রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন।

ad