ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা দেবেন আজ

Trump, Jerusalem, Israel, capital, announced
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দেশসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে সমালোচনার মুখেও একতরফাভাবে আজ জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করতে যাচ্ছেন।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় ট্রাম্প তার ভাষণে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার পাশাপাশি ট্রাম তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে আসার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে যাচ্ছেন বলে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আরব দেশগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরাতে পরিকল্পনা তৈরির জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যে নির্দেশ দিয়েছেন তা তিনি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। দূতাবাস সরানোর প্রক্রিয়াটি শেষ করতে তিন থেকে চার বছর লাগবে। তবে স্থানান্তরের ব্যাপারে ট্রাম্প কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করবেন না।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে টেলিফোনে ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা দেবেন এমন কথা জানান বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনেহ।

টেলিফোনে আব্বাস ট্রাম্পকে হুশিয়ার করে দেন যে, এ ঘোষণা হবে বিপজ্জনক এবং এর বিরুদ্ধে তিনি বিশ্ব নেতাদের শরণাপন্ন হবেন। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়া হলে তাকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে। এটা মুসলিম বিশ্ব মানবে না। জেরুজালেম মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান।

একইদিন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে কথা বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর ব্যাপারে মস্কোর সমর্থন রয়েছে। সেই আলোচনায় জেরুজালেমের বিষয়টিও উল্লেখ থাকবে।

বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো, জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ, মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গেও তিনি এ ইস্যুতে কথা বলেছেন।

এসব আলোচনায় মাহমুদ আব্বাস জেরুজালেম ইস্যুতে পাশে থাকার এবং কূটনৈতিকভাবে ফিলিস্তিনকে সমর্থন দেয়ার জন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে পৃথক পৃথক ফোন কলে বলেন, জেরুজালেমে ইসরায়েলের রাজধানী স্থানান্তরের মার্কিন পরিকল্পনা গ্রহণযোগ্য নয়। সম্মিলিতভাবে পবিত্র জেরুজালেম নগরী এবং এর ইসলামিক ও খ্রিস্টান স্থাপনাগুলো রক্ষা করতে হবে।

ওআইসির সভাপতি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান ট্রাম্পকে হুশিয়ার করে বলেছেন, জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস মুসলিমদের জন্য চরম সীমা। ট্রাম্প এ ঘোষণা দিলে আমি ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবো এবং ওআইসির বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন ডাকবো।

জেরুজালেম ইস্যুতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরোঁ বলেছেন, ট্রাম্পের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তে তিনি উদ্বিগ্ন। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন এই দুইপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই জেরুজালেম বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল বলেছেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিলে তা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের শান্তিচুক্তিতে উপনীত হওয়ার পথে হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়াবে। জেরুজালেমের বিষয়ে জার্মানির অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হবে না। বরং দুই পক্ষের পক্ষের মধ্যে আলোচনায় বার্লিন মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখবে।

তবে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে বেশ শঙ্কিত সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। এ বিষয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ট্রাম্পের এ ধরনের পদক্ষেপ ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্য শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জেরুজালেম শহরটি একই সঙ্গে ইহুদি ও মুসলিমদের জন্য একটি পবিত্র ধর্মীয় নগরী। এ কারণে এর দখল এবং প্রবেশাধিকার নিয়ে বহু বছর ধরেই তীব্র দ্বন্দ্ব চলছে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মাঝে। ইসরায়েল সবসময়ই জেরুজালেমকে তার রাজধানী হিসেবে বলে এসেছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের দাবি, পূর্ব জেরুজালেম ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের পত্তনের পর যুক্তরাষ্ট্র হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র যা জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

ad