দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতার ঐতিহাসিক বৈঠক চলছে

Two Koreans, Historians, Meetings,
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুই কোরিয়ার মধ্যে বহুল কাঙ্ক্ষিত ও ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন।

শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী শান্তি গ্রাম পানমুনজমের পিস হাউসে তারা এই বৈঠকে মিলিত হন। গত এক দশকের মধ্যে দুই কোরিয়ার বৈঠক এটাই প্রথম।

বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার উচ্চ পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তারাও অংশ নিয়েছেন। ঐতিহাসিক এই বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণুসহ দুই কোরিয়ার মধ্যে চলমান কয়েক বছরের উত্তেজনা কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে দীর্ঘ ৬৫ বছর পর এবারই প্রথম কোনো উত্তর কোরীয় নেতা আলোচনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় পা রাখলেন। এর আগে দুই কোরিয়ার নেতারা দুইবার আলোচনায় বসলেও দুইবারই সেই আয়োজন হয়েছিল পিয়ংইয়ং-এ।

Two Koreans, Historians, Meetings,

বৈঠকে অংশ নিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী পানমুনজম গ্রামে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। এছাড়া দুই নেতা কোরিয়ার সীমান্ত হেঁটে অতিক্রম করার পর কিম জং বলেন, শান্তি ও সমৃদ্ধির একটি নতুন ইতিহাস এটি।

রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, দুই দেশের সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজমের ওই সীমান্তে ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের সঙ্গে হাসিমুখে করমর্দন করেন কিম জং-উন। পরে দুই নেতা বৈঠকে বসেন পানমুনজমের এক বাড়িতে, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘পিস হাউস’।

সফরে কিমের সঙ্গে রয়েছেন তার বোন কিম ইয়ো-জোং সহ নয় শীর্ষ কর্মকর্তা। রয়েছে তার স্ত্রী রি সোল জু।

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই শীর্ষ বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু থাকবে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কার্যক্রম। সেই সাথে কিম জং উনের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক বিষয়েও আলোচনা হবে দুই পক্ষে।

Two Koreans, Historians, Meetings,

সকালের আলোচনা পর্বের পর উত্তর কোরিয়া প্রতিনিধিরা দুপুরের খাবারের জন্য নিজ অংশে ফেরত যাবেন। এরপর বিকালে সীমান্তের কাছাকাছি একটি জায়গায় একটি বৃক্ষরোপণ করবেন দুই দেশের নেতারা। ‘শান্তি ও প্রগতি’র নিদর্শন হিসেবে গাছটির চারা রোপনে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মাটি ও পানি ব্যবহার করা হবে।

এরপর দুই শীর্ষ নেতা আরো একবার আলোচনায় বসবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তবে চুক্তির বিষয়বস্তুর কী হবে তা এখনও জানা যায়নি। রাতে দক্ষিণ কোরিও অংশে নৈশভোজে অংশ নেয়ার আগে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন এই দুই রাষ্ট্রনায়ক।

দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের উত্তেজনার পর এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক সম্মেলন। তবে সিউল সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, পিয়ংইয়ং পরমাণু কর্মসূচি বর্জন না করলে তাদের মধ্যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জং-সিওক বলেছেন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ইচ্ছায় দুই দেশের নেতা সমঝোতার বিষয়ে কোনো পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন সেটাই হচ্ছে এ বৈঠকের সবচেয়ে কঠিন অংশ।

এদিকে, কিমের দক্ষিণ কোরিয়া আগমনকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাক্ষাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক পটভূমি হিসেবে কাজ করবে এই বৈঠক।

ad