নির্যাতনের মুখে এবার মিয়ানমার ছাড়ছে খ্রিস্টানরা

Christian
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে এবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিচিন এলাকার আদিবাসী খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে।  জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরু থেকে প্রায় চার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়েছে।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীনের সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় কাচিন ইনডিপেনডেন্ট অর্গানাইজেশন (কেআইও) ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্রাহীদের দমাতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যববহার করছে মিয়ানমার বাহিনী। এ কারণে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় হাজারো মানুষ পালিয়ে গেছে।

কেআইএ-র সঙ্গে লড়াই করার জন্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলটিতে দুই হাজার পদাতিক সৈন্য, যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে এবং অঞ্চলটির ১৮টি শহরের মধ্যে নয়টিতে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিবিসি আরও জানায়, মিয়ানমার সরকার ছয় বছর ধরে বিভিন্ন উপজাতি গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তিচুক্তির চেষ্টা করছে। তবে কাচিন বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বন্ধ হয়নি। তুলনামূলকভাবে তারা বেশ শক্তিশালী গোষ্ঠী।

২০১১ সালে কেআইও ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে একবার অস্ত্রবিরতির পর মাঝেমধ্যেই সংঘর্ষ হয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ রোহিঙ্গা সংকটের দিকে। আর সেনাবাহিনী কাচিনদের ওপর অভিযান শুরু করেছে।

কয়েক হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি আরও বহু মানুষ লড়াই কবলিত এলাকায় আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব এলাকায় প্রবেশ করতে দিতে ত্রাণ সংস্থাগুলো মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের নির্যাতনের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। এ সময় মিয়ানমান সেনাবাহিনী কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা, নারীদের ধর্ষণসহ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

ad