পবিত্র হজ আজ, মক্কায় বন্যার পূর্বাভাস

Jagoran- Hajj, today, Mecca, flood, forecast,
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আজ বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন পবিত্র হজ। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ২০ লাখেরও বেশি মুসল্লি হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে রওনা হয়েছেন পবিত্র আরাফাত ময়দানের দিকে। সেখানে সারাদিন খুতবা শুনে আসরের নামাজের আগে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করবেন হাজিরা।

সৌদি আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মাঝারি থেকে বজ্রসহ ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পবিত্র মক্কা নগরীতে বন্যা হতে পারে।

সোমবার (২০ আগস্ট) ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত হজযাত্রীরা ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকবেন তারা। সৌদি সময় দুপুর ১২টার পর আরাফাতের ময়দানের মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা পাঠ করবেন মদিনা মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব, মদিনা সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি শায়খ ড. হোসাইন বিন আব্দুল আজিজ আল শাইখ।

পবিত্র আরাফাত ময়দানে বিদায় হজে ভাষণ দিয়েছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম। দুপুরে আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরার মিম্বারে দাঁড়িয়ে সারা দুনিয়ার মুসলমানদের জন্য দিক নির্দেশনা মূলক খুতবা দেয়া হবে।

খুতবা শেষে মুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হবে। পবিত্র হজ উপলক্ষে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশে পাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নিয়েছে সৌদী সরকার। অন্য হাজিদের মতো লাল সবুজের পতাকা খচিত সাদা রঙের ছাতা হাতে ১ লাখ ২৬ হাজার জন বাংলাদেশীও মিনা থেকে জমায়েত হচ্ছেন আরাফাত ময়দানে।

সাদা কাপড়ে আচ্ছাদিত বিভিন্ন বর্ণ, ভাষা, জাতীয়তার মানুষগুলো সময় কাটিয়েছেন ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে। সবার কণ্ঠে ছিল ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি। জিকির-আসকারের পাশাপাশি তাদের দেখা গেছে মোনাজাতে কেঁদে বুক ভাসাতে।

মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাজিরা আবার ফিরে আসবেন মিনায়। বুধবার (২২ আগস্ট) সকালে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ত্যাগ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন হাজিরা।

এদিকে, রবিবার (১৯ আগস্ট) রাত থেকে মক্কায় বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার স্থিরচিত্র এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, রাতে ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে পবিত্র কাবার কিসওয়া (আরবি হরফে খোদিত কাপড়) সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

হজ মৌসুমে অত্যন্ত জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে ব্যবস্থাপনার কাজ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ, যাতে হজযাত্রীদের কোনো অসুবিধা না হয়।

ad