পাকিস্তানে ইমরান বিরোধী সর্বদলীয় জোট গঠন

Jagoran- imran
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানে ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের বিরুদ্ধে সর্বদলীয় জোট গড়ে তুলেছে মুসলিম লীগ ও পিপলস পার্টিসহ অন্যান্য বিরোধীরা। তারা সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পদে অনাস্থা এনে ভোট আয়োজনের কথা জানিয়েছে। এছাড়া, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারের পদেও জোটের পক্ষ থেকে লড়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) ইসলামাবাদে তারা আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে ‘অল পার্টিস কনফারেন্স’, এ.পি.সি. নামে বিরোধী জোটও গঠন করেছে। জোটটি সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পদ চ্যালেঞ্জ করার কথা জানিয়েছে। আর বিরোধীদলীয় নেতা ছাড়াও স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারের পদে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১১ই অাগস্ট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন ইমরান। তবে তাকে রীতিমতো কষে বাঁধার পরিকল্পনা এঁটেছে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো।

এক্ষেত্রে এক হয়েছে- নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ, ভুট্টো পরিবারের পাকিস্তান পিপলস পার্টি, মুত্তাহিদা মজলিস-ই আমাল, আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি, পাখতুনখোয়া মিল্লি আওয়ামী পার্টি, ন্যাশনাল পার্টিসহ অন্যান্য ছোট দলগুলো।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির মুখপাত্র শেরি রেহমান বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সংসদের বাইরে এবং সংসদের ভেতরে সবখানেই ইমরান খানের দলের বিরুদ্ধে দাঁড়াবো। পার্লামেন্টে সবার আগে স্পিকার নির্বাচন হবে, সেখানে জোটের পক্ষ থেকে পাকিস্তান পিপলস পার্টিকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। এছাড়া মুত্তাহিদা মজলিস-ই আমাল থেকে ডেপুটি স্পিকারের পদে লড়াই হবে। আর পাকিস্তান মুসলিম লীগকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেয়া হয়েছে।

মুসলিম লীগ বলছে, ইমরান খান শপথ নিলেও পার্লামেন্টে নতুন করে প্রধানমন্ত্রী পদে ভোটের আয়োজন করা হবে। এতে বিরোধী জোটেরই জয়ের আশা করছেন দলটির নেতারা।

পাকিস্তান মুসলিম লীগের মুখপাত্র মারওয়াম আরঙ্গজেব বলেন, নির্বাচন কমিশন আয়োজিত নির্বাচন বিতর্কিত হয়েছে। এতে তেহরিক-ই-ইনসাফ বেশি আসনে জয়ী হয়। তবে সংসদে নতুন ভোটের আয়োজন করা হবে। এতে আমাদের মুসলিম লীগ লড়বে প্রধানমন্ত্রী পদে।

এদিকে, পাতানো নির্বাচনের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। এ অবস্থায় এখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আলোচনার পর্যায়েই রয়েছেন ইমরান খান।

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ফল প্রকাশের এক সপ্তাহ হতে চললেও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের অভিযোগে বৃহস্পতিবারও করাচির রাস্তায় বিক্ষোভে নামেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ পিটিআইয়ের সঙ্গে জোট গঠনের গুঞ্জনে থাকা মুত্তাহিদা কোয়ামি মুভমেন্টও বিক্ষোভে অংশ নেয়।

এক বিক্ষোভকারী বলেন, নির্বাচন কমিশন কারচুপি করেছে। ভোটের দিন তারা পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে পক্ষপাতী আচরণ করেছে। আমরা এর নিন্দা জানাই, এছাড়া বেশ কিছু আসনে ভোট পুনঃগণনারও দাবি জানাচ্ছি।

এমন বিক্ষোভের মাঝেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের দৌড়ে রয়েছেন পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গণমাধ্যম জানায়, ১১৬টি আসনে জেতা ইমরান প্রয়োজনীয় ১৩৭টি আসন জোগাড় করতে ইতোমধ্যে পি.এম.এল-কিউ, পি.এ.পি, এম.ডব্লিউ.এম. এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা জারি রেখেছেন। এরই মধ্যে অনেকের সাড়াও মিলেছে বলে জানাগেছে।

ad