বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন ৬০ শিশুর জন্ম: ইউনিসেফ

Bangladesh, Rohingya camp, every day, 60 children, born
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৬০ শিশুর জন্ম হচ্ছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। এ হিসেবে মাসে জন্ম নিচ্ছে অন্তত ১৮০০ শিশু।

বুধবার (১৬ মে) সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশমুখী স্রোত তৈরি হয়। কক্সবাজারে তখন রোহিঙ্গা ঢল শুরুর পর এ পর্যন্ত ১৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। এরমধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম হয়েছে মাত্র তিন হাজার শিশুর।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব শিশুর অধিকাংশই যৌন সহিংসতার শিকার মায়েদের গর্ভ থেকে পৃথিবীতে এসেছে।

ইউনিসেফের বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডুওয়ার্ড বেইগবেদার বলেছেন, প্রতিদিন প্রায় ৬০টি শিশু ভয়ঙ্কর পরিবেশের মধ্যদিয়ে দুনিয়ার মুখ দেখছে। যেসব মায়েরা তাদের জন্ম দিচ্ছেন, তারাও নানা সংকটের মধ্যে রয়েছেন। তাদের মায়েরা এখানে এসেছে বাস্তুচ্যূত হয়ে, সহিংসতা আর আতঙ্ক পেছনে ফেলে, তাদের অনেকে হয়েছেন ধর্ষণের শিকার।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের কারণে কতটি শিশুর জন্ম হয়েছে বা হবে সেই সংখ্যা খুঁজে বের করা অসম্ভব। তবে যারা দুনিয়াতে আসছে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে সেটাই বড় কথা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শিবিরে ১৮ হাজার ৩০০ জন গর্ভবতী নারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে সেখানে এমন ২৫ হাজার নারী রয়েছেন।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞ শুরুর পর থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসাদের মধ্যে একটা বড় অংশই শিশু। এছাড়া জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে পালিয়ে গর্ভবতী অবস্থায় দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন বহু রোহিঙ্গা নারী।

রোহিঙ্গা সঙ্কটের সূচনার পর গত নভেম্বরে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে মিয়ানমারের সৈন্যরা হত্যা, লুটপাট, জ্বালাও পোড়াওয়ের পাশাপাশি ব্যাপক হারে যে যৌন সহিংসতা চালাচ্ছে, তার ভয়ঙ্কর বিবরণ উঠে আসে সেখানে।

ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৫২ জন রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে, যাদের মধ্যে ২৯ জন ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর প্রাণ নিয়ে রাখাইন থেকে পালাতে পেরেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে যে অভিযান চালাচ্ছে, তার গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ একটি অংশ এই ব্যাপক হারে ধর্ষণ।

অবশ্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এক ‘অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে’ দাবি করে, তাদের সৈন্যরা হত্যা, ধর্ষণ করেনি।

ad