বার্সেলোনার পর ক্যামব্রিলসে হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ, নিহত ৫ হামলাকারী

Cambrils, attack , conspiracy, 5 dead,
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্পেনের বার্সেলোনায় পর্যটন এলাকা লাস রাম্বলাসে ভ্যান হামলায় ১৩জন নিহতের ঘটনার পর ক্যামব্রিলস শহরে একই ধরনের আরেকটি হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে পুলিশ। এ সময় পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়। তাদের প্রত্যেকের শরীরে বিস্ফোরক বেল্ট বাঁধা ছিল।

শুক্রবার (১৮ আগস্ট) ভোরে শহরের কাতালানিয়ার উপকূলীয় অবকাশযাপন কেন্দ্র এলাকায় লোকজনের ভীড়ে গাড়ি উঠিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাত বেসামরিক নাগরিক ও এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, সন্দেহভাজন হামলাকারীরা একটি গাড়ি নিয়ে লোকজনকে চাপা দেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে গাড়ি উল্টে গেলে পুলিশ তাদের গুলি করে এবং তাদের শরীরে বাঁধা বিস্ফোরক বেল্টগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয়।

কাতালানিয়ার পুলিশ টু্ইটার বার্তায় জানিয়েছে, ক্যামব্রিলসে নিহত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বার্সেলোনা ও আলাসানার ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে- সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা কাজ করছি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে বার্সেলোনায় পর্যটন এলাকা লাস রাম্বলাসে ভ্যান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ১০০ জন আহত হন।

বার্সেলোনায় হামলার পর দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের একজন মরক্কোর নাগরিক, অন্যজন উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের ছিটমহল মেলিল্লার বাসিন্দা। যদিও তাদের কেউই হামলায় ব্যবহার করা ভ্যানের চালক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আটককৃত দ্রিস ওবাকির নামের মরক্কোর এক তরুণের কাগজপত্র হামলায় ব্যবহৃত ভ্যানের ভেতর পাওয়া গেছে। পুলিশ ২০ বছরের ওই তরুণের ছবি প্রকাশ করেছে। স্পেনের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওবাকির পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলায় জড়িত নয় এবং তার কাগজপত্র চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয় এই হামলাকে ‘জিহাদি হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এই দুই হামলার আগে বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) সকালে বার্সেলোনায় বিস্ফোরণে একটি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এতে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। এটিকে তখন দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হয়েছিল। দুটি হামলার ঘটনার পর ওই বিস্ফোরণকেও সন্ত্রাসী তৎপরতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, বার্সেলোনা হামলার ঘটনায় এক বার্তায় তথাকথিত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য দেয়নি আইএস।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীটির সংবাদমাধ্যম ‘আমাক’ এর মাধ্যমে তারা জানায়, ইসলামিক স্টেটের সেনারা এ হামলা চালিয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে লড়া যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত দেশগুলোর ওপর প্রতিশোধ নেয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ ‘অপারেশন’ চালানো হয়েছে।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন এখানে: 

ad