রাখাইনে ফিরল ৫ সদস্যের রোহিঙ্গা পরিবার

Rakhine return, 5 members, Rohingya family,
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবার প্রথমবারের মতো নিজেদের মাতৃভূমি রাখাইনে ফিরেছে। প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার প্রস্তুত নয় এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই তারা দেশে ফিরেছে।

শনিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে ওই পরিবারটি রাখাইনের তাউনপিওলেতউইয়া সেন্টারে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। খবর হিন্দুস্তান টাইমস, রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো বাস্তবতা সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে পাঁচ সদস্যের এক রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে নেপিদো।

মিয়ানমার সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিবাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওই পরিবারের সদস্যদের পরীক্ষা করেছে। আর সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও ‍পুনর্বাসন তাদের চাল, মশারি, কম্বল, টি-শার্ট, লুঙ্গি ও হাঁড়িপাতিল দিয়েছে। ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যারা শর্ত পূরণ করেছে তারা মিয়ানমারে পৌঁছানোর তাদের ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ডস (এনভিসি) দেয়া হয়েছে।

তবে রোহিঙ্গা নেতারা মিয়ানমার সরকারের এই এনভিসি’র সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, এই কার্ড দেয়ার অর্থ হলো সারাজীবন রাখাইনে বাস করা রোহিঙ্গারা এখন নতুন অভিবাসী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

দুই বছরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা-নেপিদো প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মিয়ানমার রাখাইনে দুটি অভ্যর্থনাকেন্দ্র স্থাপন করেছে। এগুলোকে অস্থায়ী শিবির নামে ডাকছে মিয়ানমার।

তবে সেখানে বহুল প্রতীক্ষিত ও বিরল সফর শেষে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য এখনও তৈরি নয় রাখাইন। সরেজমিন বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখে এবং সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল উরসুলা মুয়েলার এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

ছয় দিনের সফর শেষে উরসুলা মুয়েলার সংবাদমাধ্যমকে জানান, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা, নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আর অব্যাহত স্থানচুত্যির ঘটনা ঘটছে ধারাবাহিকভাবে। এই পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার জন্য সহায়ক নয়। ভবিষ্যতেও প্রত্যাবাসন আদতে সম্ভব কিনা, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

তবে জাতিসংঘের এই সংশয়কে আমল না নিয়ে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নিল।

নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, সমস্যাগুলোর একটি হলো সহিংসতার সময় খালি হওয়া কমপক্ষে ৫৫টি গ্রাম বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমার।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সংকট মোকাবিলাবিষয়ক পরিচালক তিরানা হাসান মার্চে বলেন, রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীকে বিপুল পরিমাণে জমি দখল করতে দেখা গেছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনকারী সেই একই নিরাপত্তা বাহিনী এখন ঘর তৈরির জন্য নতুন ঘাঁটি স্থাপন করেছে। আর তা রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে আরও বেশি দুরাশায় পরিণত করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, কেবল তাদের বাড়িঘরই নষ্ট হয়নি, বরং নতুন এ নির্মাণকাজের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে আগে থেকে অমানবিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য পুরনো বাস্তবতাকেই সুরক্ষিত করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে মুয়েলার সম্প্রতি বলেন, আমি পুড়িয়ে দেওয়ার পর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো দেখেছি। লোকজনকে তাদের মূল জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রস্তুতি আমি দেখিওনি, শুনিওনি।
মিয়ানমার কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করছেন, শরণার্থীদের জন্য আবাসন তৈরির জন্যই গ্রামগুলোতে বুলডোজার চালানো হয়েছে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে আট লাখের অধিক রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত সপাড়ি দিয়ে এদেশে প্রবেশ করে। বিভিন্ন সময়ে প্রবেশ করা আরও প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা আগে থেকেই বাংলাদেশে ছিল। সব মিলিয়ে এখন প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়েছিল, মানবতার দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তবে মিয়ানমারতে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে।

ad