রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে জাতিসংঘ-মিয়ানমার সমঝোতা

Return of Rohingya, United Nations-Myanmar, Signature,
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করলে তাদের নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবর্তনের জন্য অবশেষে জাতিসংঘের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে মিয়ানমার।

বুধবার (৬ জুন) স্বাক্ষরিত এ সমঝোতার মাধ্যমে দুপক্ষ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ‘স্বাধীন, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্যে সহযোগিতামূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার’ করেছে।

এই সমঝোতার ফলে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপি প্রবেশের অনুমতি পাবে।

মিয়ানমারের সঙ্গে এ ধরনের সমঝোতা স্মারক চুক্তিকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রত্যাবর্তনের ‘প্রথম পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের সেখানকার আবাসিক প্রতিনিধি কান্ট ওস্তবি।

জাতিসংঘের কর্মকর্তা বলেন, এ জন্য আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। কিন্তু এটাকে অগ্রাহ্য করা যাবে না। আমরা প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে কথা বলব। কিন্তু তাদেরকে যথাযথ শর্তের মধ্যদিয়ে ফিরে আসার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সমাজে তাদের সম্মানজনক অবস্থান, নিরাপত্তার বিষয় এমনকি তাদের জীবিকা, বাসস্থানের মতো বিষয়গুলোকেও শর্তের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে।

গত নভেম্বরে বাংলাদেশ ও নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছেছিল। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের দাবি ছিল, পরিচয় সনাক্তকারী কাগজপত্র দেখিয়ে মিয়ানমারের অধিবাসী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারলেই তারা তাদের ফেরত নেবে। অথচ সেই কাগজপত্র অধিকাংশ রোহিঙ্গারই পাবার অধিকার ছিল না নিজ দেশে।

এটা ছাড়াও বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ভয়, আন্তর্জাতিক নজরদারি ছাড়া মিয়ানমারে ফিরে গেলে সেখানে তাদের জীবন আবারও ঝুঁকির মুখে থাকবে। তাই আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা ছাড়া দেশে ফিরতে নারাজ তারা।

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন এবং রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেখানে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে

ad