সিআইএর প্রথম নারী পরিচালক জিনা হাসপেল

CIA, first woman director, Jina Haspel,
ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা- সিআইএর প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পেয়েছেন জিনা হ্যাসপল (৬১)। সংগঠনটির ৭০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোন নারী পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ মে) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত হাসপেল ৫৪-৪৪ ভোটে সিনেটে নিজের অনুমোদন নিশ্চিত করেন। এর আগের দিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির কাছ থেকে ১০-৫ ভোটে অনুমোদন পান জিনা হাসপেল।

বিতর্কিত জিজ্ঞাসাবাদ কৌশল ব্যবহারের কারণে জিনার ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। ৯/১১ হামলার পর সিআইএর বিতর্কিত জিজ্ঞাসাবাদ কৌশল ওয়াটারবোর্ডিং (মুখ ঢেকে পানি ঢালা) প্রয়োগে নিজের সংশ্লিষ্টতার কারণে মানবাধিকার গ্রুপ, প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট এমনকি কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরও তার সমালোচনা করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিআইএ পরিচালক হিসেবে জিনা হাসপেলকে মনোনয়ন দিলে তার বিরোধিতা করেছিলেন নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম সিনিয়র সিনেটর জন ম্যাককেইন।

বিতর্কিত জিজ্ঞাসাবাদ কৌশল (ইনহ্যাস্নড ইন্টারোগেশন প্রোগ্রাম) প্রয়োগে সংশ্লিষ্টতার কারণে ম্যাককেইন তার মনোনয়নের বিরোধিতা করলেও কয়েকজন ডেমোক্র্যাটের সমর্থন পেয়ে মনোনয়নে টিকে যান জিনা।

জিনার তিন দশকের ক্যারিয়ারের একটি বড় অংশ কেটেছে আন্ডার কাভার এজেন্ট হিসেবে। ৯/১১ হামলার পর ২০০২ সালে তাকে থাইল্যান্ডে সিআইএর এক বন্দীশিবিরের দায়িত্ব দেয়া হয়।

ওই বন্দীশিবিরে ওয়াটারবোর্ডিংয়ের (কাপড়ে মুখ বেঁধে পানি ঢালা, যাতে বন্দীর ডুবে যাওয়ার অনুভূতি হয়) মত বিতর্কিত পদ্ধতি প্রয়োগ করে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি তিনি এমন একজন যিনি প্রেসিডেন্টের নির্যাতন ফিরিয়ে আনার মতো অবৈধ ও নীতি-বহির্ভূত আদেশের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবেন। তবে জিনা হাসপেলের নিয়োগের প্রাথমিক পর্যায়ে বিরোধিতা করেছিলেন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির সদস্য ওয়ার্নার।

জিনা হাসপেল মার্ক ওয়ার্নারকে একটি চিঠি লেখার পরে নিজের মত পাল্টান বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, নিজের শুভবুদ্ধির সুযোগ নিয়ে এবং একটি সংস্থার উর্ধ্বতন নেতা হিসেবে বলতে চাই ইনহ্যাস্নড ইন্টারোগেশন প্রোগ্রাম সিআইএ আর চালিয়ে যাবে না।

৩৩ বছর ধরে সিআইএ’তে কাজ করা ঝানু গোয়েন্দা হাসপেল তার পূর্বসুরী মাইক পম্পেও এর স্থলাভিষিক্ত হবেন। গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পম্পেও-এর নিয়োগ চূড়ান্ত হলে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন জিনা০।

সমালোচনা সত্ত্বেও সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির কাছে ব্যাপক সম্মান পেয়েছেন জিনা। তার সমর্থনে গলা মিলিয়েছেন সিআইএ’র সাবেক কয়েকজন পরিচালকও। ১৯৮৫ সালে সিআইএ’তে যোগ দিয়ে সংস্থার হয়ে প্রায় ২০টি আলাদা ধরনের কাজ করেছেন তিনি। দেশের বাইরেও সংস্থার হয়ে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

ad