কুঁচকিতে চুলকানির সমাধান জেনে নিন

দুই রানের বা উরুর মধ্যবর্তী স্থানে অস্বস্তিকর চুলকানিতে আক্রান্ত হন অনেক মানুষই। সাধারণত আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি থাকে। এই চুলকানিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় হয় “জক ইচ” বা “টিনিয়া ক্রুরিস”।

সাধারণ চামড়ার বাইরের অংশে, নখে ফাঙ্গাল ইনফেকশনের কারণে এই রোগটি দেখা যায়। রোগটি শরীরের কোন একটি অংশে হলে অন্যান্য অংশেও খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া এটি বিভিন্নভাবে অন্যের শরীরেও ছড়িয়ে যায়।

জক ইচ হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে ফাঙ্গাস। চামড়ার উপরিভাগেই ছত্রাক আক্রমণ করে থাকে। আমাদের শরীরের আর্দ্র স্থান যেমন কটিসন্ধি, উরু বা রানের সংযোগস্থল এবং নিতম্বে এই ফাঙ্গাস/ছত্রাক বেশি জন্মায়। সাধারণত শরীরের এই স্থানগুলোতে ঘাম বেশি হয়, তৈলাক্ত থাকে ফলে ফাঙ্গাস তার উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে যায়।

জক ইচ থেকে সাধারণত ঘরোয়া পদ্ধতিতেই মুক্ত পাওয়া যায়। কিছু ওষুধ রয়েছে যা বিনা প্রেসক্রিপশনেই আপনি যে কোন ফার্মেসিতে পেয়ে যাবেন। এই রোগ হলে যা করবেন।

১. চুলকানির স্থান প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। কোন অবস্থাতেই অপরিষ্কার থাকা যাবে না। গোসলের সময় জীবাণুনাশক সাবান দিয়ে আক্রান্ত স্থান ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন, এবং অবশ্যই লক্ষ্য রাখুন সাবানটি যেন আপনার পরিবারের অন্য কোন সদস্য ব্যবহার না করে। নাহলে তারাও এতে আক্রান্ত হবে।

২. প্রতিদিন পরিষ্কার অন্তর্বাস ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে পরামর্শ হচ্ছে সপ্তাহের ৭ দিনের জন্য ৭টি অন্তর্বাস কিনে নিন। প্রতিদিন নতুন অন্তর্বাস পরুন। সম্ভব না হলে একদিন ব্যবহারের পরেই অন্তর্বাস ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন।

৩. চুলকাবেন না। যত বেশি চুলকাবেন ততই তা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়বে। এছাড়া এটি আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে, ফলে জনসমক্ষে বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হবে।

৪. আক্রান্ত স্থান যথা সম্ভব শুষ্ক রাখার চেষ্টা করুন

৫. সুতির অন্তর্বাস পরিধান করুন

৬. প্রতিদিন আক্রান্ত স্থানে এন্টিফাঙ্গাল ক্রিম ব্যবহার করুন যাতে terbinafine, miconazole, বা clotrimazole উপাদানগুলো আছে। ফার্মেসিতে গিয়ে Lamisil, Lotrimin, Micatin, বা Monistat নামের ক্রিমের খোঁজ করুন। একই নামের না পেলেও একই কাজ করে এমন ক্রিম পেয়ে যাবেন। ক্রিমের গায়ে লেখা ব্যবহার বিধি অনুসরণ করুন।

মন্তব্য লিখুন :