কালোজিরার যত উপকারিতা

রান্নাঘরের দরকারি মশলা, ফোড়নের অন্যতম উপাদান। প্রায় অনেক রান্নাতেই স্বাদ যোগ করতে রোজই ব্যবহার হয় তার। অথচ পুষ্টিবিদ ও খাদ্যবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু রান্নায় স্বাদ যোগ করাই এর একমাত্র কাজ নয়। বরং প্রতি দিনের পাতে উপস্থিত থেকে শরীরকে নানা অসুখের সঙ্গে লড়তেও সাহায্য করে। কালো জিরের এমন নানা ওষধি ক্ষমতা জানলে অবাক হতে হয় বইকি!

মুখের ব্রণ দূর করতে

দামি ক্রিম, ফেসওয়াশ আর বিউটি পার্লারে ফেসিয়ালের পেছনে হাজার টাকা ব্যায় না করে পাশের মুদি দোকান থেকে কিনে আনুন আধা কেজি কালোজিরা। কালোজিরা বেটে তাতে লেবুর রস আর চিনি মিশিয়ে মিশ্রণটি মাখুন পুরো মুখে। দশমিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহখানেক এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন, দেখবেন ব্রন পালাবে বাপ বাপ করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

কালোজিরার তেল ও চূর্ণ ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী। নিয়মিত সেবনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

মেদ ও হৃদরোগের ঝুকি কমাতে

চা বা গরম পানির সাথে কালোজিরার তেল মিশিয়ে পান করলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি শরীরের বাড়তি মেদও কমে যাবে।

গ্যাসের সমস্যায়

পেটে গ্যাসের সমস্যায় এক কাপ দুধ ও ১ চা চামচ কালোজিরা তেল একসঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন। উপকার পাবেন কালোজিরা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

চুল পড়া রোধে

কালোজিরার তেলের সুখ্যাতি আছে চুলপড়া রোধে।  এই তেল কেবল চুল পড়াই রোধ করে না, মাথার তালুতে যোগায় আর্দ্রতা। ফলে চুলের বৃদ্ধিও বেড়ে যায় বহুগুণে।

শ্বাসকষ্ট সারাতে

অ্যাজমা এবং ক্রনিক কাশির সমস্যায় যারা ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রেও ওষুধের মতো কাজ করে কালোজিরা। সকালে নাশতা খাওয়ার আগে গরম পানিতে মধু আর কালোজিরা মিশিয়ে টানা ৪০ দিন খেলে শ্বাসকষ্ট দূর হবে। এই সময়টুকুতে অবশ্য ঠান্ডা থেকেও নিজেকে রাখতে হবে দূরে। এভাবে ৪০ দিন কাটাতে পারলে কাশি এবং শ্বাসকষ্ট থেকে মুক্তি মিলবে নিশ্চিতভাবেই।

সুস্থ দাঁতের জন্য

যাদের দাঁতে ব্যাথা হয়, তারা কালোজিরা তেল ভিনেগারে মিশিয়ে তা দিয়ে কুলকুচি করুন। দাঁতে ব্যাথা সেরে যাবে। মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার সমস্যা থাকলে টক দইয়ে কালোজিরা বাটা মিশিয়ে মিশ্রণটি মাড়িতে লাগিয়ে রাখুন। দুই মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহখানেক পর মুক্তি মিলবে এই সমস্যা থেকে।

পাইলসের সমস্যা দূর করতে

কোষ্ঠকাঠিণ্যের সমস্যা যাদের আছে, তারাই জানেন এটি কতটা কষ্টদায়ক। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রং চায়ের সঙ্গে কালোজিরার তেল মিশিয়ে খান প্রতিদিন।

মন্তব্য লিখুন :