খেজুর খাওয়ার আশ্চর্য সব উপকারিতা

খেজুর চিনেন না এবং পছন্দ করে না এমন লোক হয়তো খুবেই কম। কিন্তু আনেকেই হয়তো জানেন না এর গুনাগুণ সম্পর্কে। সবচেয়ে গুণাগুণ সমৃদ্ধ ফল হচ্ছে খেজুর। অন্যান্য ফলের চেয়ে খেজুরের উপকারিতা রয়েছে যথেষ্ট। অতিপ্রাচীন কাল থেকেই খেজুর অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। প্রায় সবাই এটি খেতে অনেক পছন্দ করে কারণ খেজুর অত্যন্ত সুস্থাদু ও রুচিশীল একটি ফল, যার রয়েছে শরীরের জন্য আশ্চর্যজনক উপকারিতা।

আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক খেজুরের উপকারিতা গুলো সম্পর্কে-

১. হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। এটি আপনার হজমশক্তি উন্নত করে। হজম ভালো হলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না। প্রতিদিন খেজুর খেলে হজমজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। যেমন, পাকস্থলীর ব্যথা এবং গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে খেজুর।

২. ভালো রাখে হৃদয়

খেজুরের উপস্থিত ফাইবার আপনার হৃদয়কে শক্তিশালী করে এবং ভালো রাখে। খেজুরে পটাসিয়াম রয়েছে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে এড়াতে পারে। তাই হার্টকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন খেজুর খান।

৩. ব্যথা কমায় বাতের

খেজুরে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। ম্যাগনেসিয়ামে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি রয়েছে যা হৃদরোগ (রক্ত জমাট বাঁধা), নিয়োপ্লাজিয়া এবং অ্যালজাইমার্স জাতীয় রোগ রুখতে সাহায্য করে।

৪. ব্লাডপ্রেশার বশে

খেজুরে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কাজ করে। খেজুরে উপস্থিত পটাসিয়াম অতিরিক্ত রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। অনেকে হাই ব্লাড প্রেসারে কী খাবেন বুঝে উঠতে পারেন না। এই সমস্যায় নির্ভাবনায় খেজুর খান।

৫. হার্ট অ্যাটাক রোধী

আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিকাল নিউট্রিশনের একটি গবেষণা অনুসারে, কোনও ব্যক্তি একদিনে ১০০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৯% হ্রাস পায়। তাই হদরোগ থেকে দূরে থাকতে খেজুর খান রোজ।

৬. কমায় রক্তাল্পতা

লোহিত রক্তকণিকা এবং আয়রনের ঘাটতির কারণে অনেকে রক্তাল্পতায় আক্রান্ত হন। রক্তাল্পতা মানে শরীরে রক্তের অভাব। খেজুরে প্রচুর আয়রন পাওয়া যায়। তাই রক্তাল্পতার চিকিৎসার জন্য এটি অব্যর্থ। নিয়মিত খেজুর খেলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি কমে।

৭. স্নায়ু রাখে টানটান

খেজুরে স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখার সমস্ত ভিটামিন আছে। এই ভিটামিনগুলি স্নায়ুতন্ত্রকে আরও উন্নত করে। শুধু তাই নয়, এতে উপস্থিত পটাসিয়াম মস্তিষ্ককে ধারালো রাখে। স্নায়ুতন্ত্রের উন্নতির জন্য রোজ খেজুর খাওয়া উচিত।

৮. গর্ভবতীদের জন্য ধন্বন্তরি

আয়রনে সমৃদ্ধ খেজুর মা এবং বাচ্চা উভয়ের জন্য খুব দরকারি। খেজুরে উপস্থিত পুষ্টিকর উপাদান জরায়ুর পেশি শক্তিশালী করতেও কাজ করে। মায়ের দুধে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। এটি সন্তান প্রসবের পরে  রক্তক্ষরণের সময় শরীরে রক্তর অভাব মেটায়।

৯. যৌনক্ষমতা বাড়ায়

কিছু গবেষণা বলছে, খেজুর যৌনশক্তি বৃদ্ধিতেও কার্যকরী। Estradiol এবং ফ্লাভোনয়েড খেজুরগুলিতে পাওয়া যায় যা শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়ায় সহায়তা করে।

১০. দাঁত থাকবে মজবুত

খেজুরে পাওয়া যায় ফ্লুরিন। এটি এমন একটি রাসায়নিক যা দাঁত থেকে প্লাক সরিয়ে গর্ত হওয়া বন্ধ করে। শুধু এটিই নয়, দাঁতের এনামেল আরও শক্তিশালী করে। ঝকঝকে করে তোলে দাঁত।

১১. চুল-ত্বক ঝলমলে

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খেজুর ত্বককে স্থিতিস্থাপক রাখে এবং এটিকে নরম করে তোলে। খেজুরগুলিতে উপস্থিত ভিটামিন বি ৫ স্ট্রেচ চিহ্নগুলি দূর করতেও কার্যকরী। শুধু তাই নয়, এটি চুলকে স্বাস্থ্যকরও রাখে। ভিটামিন বি ৫- এর অভাবের কারণে চুল দুর্বল হয়ে ডগা ফেটে যেতে শুরু করে।

১২. রাতকানা রোগ গায়েব

প্রতিদিন খেজুর খাওয়া রাতের অন্ধত্ব নিরাময়ে কার্যকরী। রাতের অন্ধত্ব থেকে মুক্তি পেতে খেজুরের পেস্ট তৈরি করে চোখের চারপাশে লাগালে উপকার পাবেন। আপনি চাইলে খেজুর খেয়ে রাতের অন্ধত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারেন।