থানকুনি পাতার অবিশ্বাস্য সব উপকারিতা

থানকুনি পাতা। আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। নিয়মিত থানকুনি পাতার রস খাওয়া শুরু করলে একাধিক উপকার মেলে। বিশেষত, শরীরের যত্নে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প (Thankuni Patar Upokarita In Bengali) হয় না বললেই চলে। চলুন জেনে আসি এই ওষুধি পাতার গুণ সম্পর্কে।


শরীরে রক্তের প্রবাহে উন্নতি ঘটে


নিয়মিত থানকুনি পাতার রস (Centella Asiatica) খেলে ব্লাড ভেসেলের যে দেওয়াল রয়েছে, তার ক্ষমতা যেমন বাড়ে, তেমনই সারা শরীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে দেহের প্রতিটি অঙ্গে বিশুদ্ধ রক্ত পৌঁছে যাওয়ার কারণে রোগ-ব্যাধির প্রকোপ কমতে (Thankuni Patar Upokarita) সময় লাগে না। বাড়ে শরীরের ক্ষমতাও। সেই সঙ্গে পা ফুলে যাওয়া এবং পায়ে যন্ত্রণা হওয়ার মতো সমস্যাও দূরে থাকে।


শরীরের ভিতরে প্রদাহের মাত্রা কমায়


কোনও কারণে শরীরের ভিতরে যদি ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহের মাত্রা বেড়ে যায়, তা হলে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, সঙ্গে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে আরও নানা ধরনের সমস্যা। এক্ষেত্রে জয়েন্টে ব্যথা, বারে-বারে জ্বর আসা, ক্লান্তি (Thankuni Pata Medicinal Uses In Bengali), মাথা যন্ত্রণা, খিদে কমে যাওয়া এবং পেশিতে যন্ত্রণা হওয়ার মতো লক্ষণগুলি প্রকাশ পায়। এই সময় যদি সঠিক চিকিৎসা শুরু করা না যায়, তা হলেই বিপদ! তবে এমন পরিস্থিতি আসার আগেই কিন্তু ড্যামেজ কন্ট্রোল (থানকুনি পাতার উপকারিতা) করা সম্ভব। কীভাবে তাই ভাবছেন? এক্ষেত্রে প্রতিদিন থানকুনি পাতার রস খেতে হবে (Thankuni Pata Benefits In Bengali), তা হলেই মিলবে সুফল। কারণ, এই প্রাকৃতিক উপাদানটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপদান, যা নিমেষে প্রদাহের মাত্রা কমায়। সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের মতো সমস্যাকেও দূরে রাখে। কমায় জয়েন্টের ব্যথা।


চুল পড়ার হার কমে


নানা সময়ে হওয়া বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে ২-৩ বার থানকুনি পাতা খেলে স্কাল্পের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। ফলে চুল পড়ার মাত্রা কমতে শুরু করে। চুল পড়ার হার কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। কীভাবে? পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা নিয়ে তা থেঁতো করে নিতে হবে। তারপর তার সঙ্গে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা এবং আমলা মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। সবশেষে পেস্টটা চুলে লাগিয়ে নিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। ১০ মিনিট পরে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে চুলটা। প্রসঙ্গত, সপ্তাহে কম করে ২ বার এইভাবে চুলের পরিচর্যা করলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!


হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে


থানকুনি পাতা হজম ক্ষমতারও উন্নতি হবে। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে টিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।


স্টমাক আলসারের মতো রোগ দূরে রাখে


Asiaticoside নামে একটি উপাদান রয়েছে থানকুনি পাতায়, যা হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। সেই সঙ্গে স্টমাক আলসারের মতো রোগের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, পেট খারাপ বা ডায়রিয়ার চিকিৎসাতেও (Benefits of Thankuni Leaves) অনেক সময় এই পাতাটিকে কাজে লাগানো হয়ে যাকে।


আমাশয়ের মতো সমস্যা দূর হয়


এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে থানকুনি পাতা খেতে হবে। এমনটা টানা ৭ দিন যদি করতে পারেন, তাহলেই কেল্লাফতে! এই ধরনের সমস্যা কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। প্রথমে পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা বেটে নিন। তারপর সেই রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মেশান। এই মিশ্রনটি দু চামচ করে, দিনে দুবার খেলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।


 কাশির প্রকোপ কমে


২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি কমে যায়। আর যদি এক সপ্তাহ খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে কাশির কোনও চিহ্নই থাকবে না।


গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়


অসময়ে খাওয়ার কারণে ফেঁসেছেন গ্যাস্ট্রিকের জালে? নো প্রবেলম! থানকুনি পাতা কিনে আনুন বাজার থেকে। তাহলেই দেখবেন সমস্যা একেবারে হাতের মধ্যে চলে আসবে। আসলে এক্ষেত্রে একটা ঘরোয়া চিকিৎসা দারুন কাজে আসে। কী সেই চিকিৎসা? হাফ লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি এবং অল্প পরিমাণে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে একটা মিশ্রন তৈরি করে ফেলুন। তারপর সেই মিশ্রন থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা এক সপ্তাহ করলেই দেখবেন উপকার মিলবে।