অল্প গরম পানি; খুসখুসে কাশি তাতেই উপশম

জ্যৈষ্ঠের আম-কাঁঠাল পাকার আবহাওয়ায় অস্বস্তিকর গরম পড়েছে। খুব ঘাম হচ্ছে। আর তাতেই লেগে যাচ্ছে ঠান্ডা, হচ্ছে খুসখুসে কাশি। সাধারণত ঠান্ডা ও ফ্লুয়ের কারণে কাশি হয়। তবে অ্যালার্জি, অ্যাজমা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, শুষ্ক আবহাওয়া, ধূমপান, এমনকি কিছু ওষুধ সেবনের ফলেও এ সমস্যা তৈরি হতে পারে।


গরমে অতিরিক্ত ঘাম, রোদ ও বৃষ্টির কারণে জ্বর-সর্দি-কাশিতে সবাই ভোগেন। তবে জ্বর-সর্দি ২-৩ দিনের মধ্যে সেরে গেলে কমতে চায় না কাশি। সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও অনেকেরই কাশি কমে না। অথবা অ্যালার্জি, সংক্রমণ ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সসহ বিভিন্ন কারণে কাশির সমস্যা বাড়তে পারে। এ সমস্যার সমাধান পাওয়াও কঠিন। কারণ দিনের পর দিন কাশির ওষুধ খাওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো না।


আসুন জেনে নেই সামান্য প্রাকৃতিক উপাদান ও গরম পানির যোগসাজশে কীভাবে কমবে কাশি—


★ শ্লেষ্মাযুক্ত কাশি বা কফের চিকিৎসায় গরম পানি পানি বেশ উপকারী। কাশি হলেই পানি গরম করে ফ্লাক্সে রেখে দিবেন৷ কাশি হলেই কাপে গরম পানি নিয়ে চায়ের মতো ধীরে ধীরে পান করুন। দেখবেন, তীব্র কাশিও আস্তে আস্তে উপশম হবে।


★ কাশি কমাতে ভাঁপ বা স্টিম বেশ উপকারী। গরম পানিতে গোসল করলেও উপকার মিলবে। গরম পানির ভাঁপ নেওয়ার সময় এতে ভেষজ বা এসেনশিয়াল অয়েল যোগ করুন, যেমন— ইউক্যালিপটাস বা রোজমেরি। এতে গলা দ্রুত পরিষ্কার হবে। এছাড়াও মেনথল দিয়ে ভাঁপ নিলেও কাজে দেয়।


★ গরম পানিতে আদা জ্বাল দিয়ে খেলে কমবে কাশি। আদার স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে কমবেশি সবারই ধারণা আছে। আদা শুষ্ক বা হাঁপানির কাশি কমাতে পারে। কারণ এতে প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য আছে। এছাড়া এটি বমি বমি ভাব ও ব্যথা উপশমে কার্যকরী। এক গবেষণা অনুসারে, আদার কিছু প্রদাহবিরোধী যৌগ শ্বাসনালির ঝিল্লি শিথিল করতে পারে, যা কাশি কমায় দ্রুত।


কাশি সারাতে এক কাপ গরম পানিতে ২০-৪০ গ্রাম তাজা আদার টুকরা মিশিয়ে কিছুক্ষণ জ্বালিয়ে আদা চা তৈরি করুন। স্বাদ বাড়াতে মধু বা লেবুর মেশাতে পারেন। আবার কাশি হলে মুখে এক টুকরো আদা রাখলেও স্বস্তি মিলবে।


★ গবেষণা অনুসারে, মধু কাশি উপশম করতে পারে। এক গবেষণায় শিশুদের রাতের কাশির চিকিৎসায় মধুকে কাশি-দমনকারী ওষুধ ডেক্সট্রোমেথরফানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, মধু কাশি থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে পারে। তারপরে ডেক্সট্রোমেথরফান। কাশি নিরাময়ের জন্য ২ চা চামচ গরম পানি বা ভেষজ চায়ের সঙ্গে মধু মেশান। দিনে একবার বা দুবার এই মিশ্রণটি পান করুন। তবে এক বছরের শিশুদেরকে মধু দেবেন না।


★তুলসীপাতা গরম পানিতে জ্বাল দিয়ে খান। তুলসী সাধারণত ছেঁচে রসটুকু খাওয়া হয়, তবে পানিতে জ্বাল দিয়ে খেলেও উপকার আছে।


★ আদা, তেজপাতা, দারচিনি, লবঙ্গ জ্বাল দিয়ে সেই গরম পানিটুকু অল্প অল্প করে বারে বারে খান। চিনি মেশাবেন না। চাইলে অল্প মধু দিতে পারেন।কাশি থেকে মুক্তি মিলবেই।


★ তবে টানা কয়েক সপ্তাহ কাশি স্থায়ী হলে ও ওষুধ কিংবা ঘরোয়া প্রতিকারেও না সারলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।