শরীর সুস্থ-সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে নিমপাতা

নিম একটি ওষধি গুণ সম্পন্ন, চির হরিত, বহু বর্ষজীবি বৃক্ষ। নিম গাছের ডাল, পাতা— সবই কাজে লাগে।


এর বৈজ্ঞানিক নাম Azadirachta indica। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রকমভাবে নিমের ব্যবহার শুরু হয়। এর আদি নিবাস মিয়ানমার হলেও বর্তমানে বাংলাদেশ সহ, ভারত, পাকিস্তান ও সৌদি আরবে নিম গাছ পাওয়া যায়। নিম গাছের বহুমুখী উপকারিতার জন্য একে অনেকেই বন্ধু বৃক্ষ বলে থাকেন। এর ব্যবহার সৃষ্টির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সমানভাবে রয়েছে। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় আরও সুনিপুণ ভাবে মানুষ এর ব্যবহার বেড়ে চলেছে।


নিমের কাঠ খুব শক্ত। নিম কাঠে উইপোকা বাসা বাঁধে না। ফলে নিম কাঠে কখনও ঘুণ ধরে না। শুধু উইপোকাই নয়, নিম গাছে কোনও পোকাই বাসা বাঁধে না। তাই নিম কাঠ দিয়ে আসবাবপত্রও তৈরি করা হয়। আসুন এবার নিমের কিছু আশ্চর্য ওষধিগুণ ও কার্যকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-


১) ত্বক ভাল রাখতে


নিম তেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই এবং ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এই উপাদানগুলি ত্বক এবং চুলের জন্য খুবই উপকারী। নিমপাতা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক (ফাঙ্গাস) কমাতেও সহায়তা করে। তাই ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের আক্রমণের হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করতে কাজে আসে নিমপাতা। ব্রণের সমস্যা থেকে দ্রুত নিস্তার পেতে নিমপাতা বেটে লাগাতে পারেন।


২) দুর্গন্ধ কমাতে


বহু যুগ আগে থেকেই দাঁতনের জন্য নিমের ডাল ব্যবহার করা হয়। কারণ মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যরক্ষা করতে ও মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে কাজে আসে নিম। দাঁতের ফাঁকে জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধ করতেও নিম বেশ কার্যকরী। শুধু দাঁত নয়, গায়ে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতেও নিমপাতার রস খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। স্নানের সময় বালতিতে নিম পাতার রস মিশিয়ে স্নান করতে পারেন।


৩) ক্ষতস্থানে


কেটে-ছড়ে গেলে বা পুড়ে গেলে ক্ষতস্থানে নিম পাতার রস ভেষজ ওষুধের কাজ করে। ত্বকের যে কোনও চুলকানির সমস্যায় নিমপাতা বেটে লাগাতে পারলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। তবে বাটার আগে ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে নিমপাতাগুলি।


৪) পেটের সমস্যা কমাতে


নিয়মিত সামান্য পরিমাণে নিমপাতা খেতে পারলে কোষ্ঠকাঠিন্য-সহ লিভারের নানা সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই সঙ্গে রক্ত পরিশুদ্ধ করতে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত, ক্ষতিকর উপাদান বের করে শরীর সুস্থ-সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে নিমপাতার রস খুবই কার্যকরী বলে মনে করেন অনেকে।


৫) ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে


নিয়মিত নিমপাতার সঙ্গে কাঁচা হলুদ ভাল করে বেটে মেখে দেখুন। ফিরতে পারে ত্বকের উজ্জ্বলতা। তবে খেয়াল রাখতে হবে, মিশ্রণে নিমপাতার চেয়ে হলুদের পরিমাণ যেন কম থাকে। হলুদ ব্যবহার করার পর কয়েক ঘণ্টা রোদ এড়িয়ে চলাই ভাল।


৬) চুলের যত্নে


মাথার ত্বকের চুলকানির সমস্যায় নিমপাতার রস ব্যবহার করতে পারেন। নিমপাতার রস মাথায় নিয়মিত লাগাতে পারলে এই চুলকানির সমস্যা কমে যায়। নিমপাতার রসে চুলের গোড়া শক্ত হয়। এ ছাড়া চুলের শুষ্কতা বা রুক্ষ ভাব কমে যায় এবং নতুন চুল গজাতে শুরু করে।


৭) চুলকানির সমস্যায়


শুধু চুলের নয় ত্বকের যেকোনো চুলকানির সমস্যায় নিমপাতা ব্যবহার করলে উপকার পাবেন। ১০. ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে নিমপাতার রস ব্যবহার করতে পারেন। ১১. নিয়মিত সামান্য পরিমাণে নিমপাতা খেতে পারলে কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা লিভারের সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। ১২. নিমপাতা রক্ত পরিশুদ্ধ করতে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত, ক্ষতিকর উপাদান বের করে। শরীর সুস্থ-সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে নিমপাতার রস খুবই উপকারী।