কনুইয়ের কালচে দাগ, সমাধান আপনার হাতেই

কনুইয়ের ত্বক আমাদের শরীরের অন্য অংশের ত্বকের চাইতে বেশি পুরু। ফলে ত্বকের ময়শ্চারাইজার এই এই অংশে তেমন একটা কাজ করে না। এতে খুব তাড়াতাড়ি কনুই শুষ্ক হয়ে যায় কনুইয়ের এই অংশে মেলানিন বেশি তৈরি হয় বলে কালচে ভাবটাও বেশি।


নিয়মিত পরিচর্যায় মুখের উজ্জ্বলতা বাড়লেও কনুইয়ের কালচে দাগ তোলার ব্যপারে আমরা অনেকেই উদাসীন। চাপ দিয়ে বসার কারণেও কনুইয়ে কালো দাগ পড়ে। তা ছাড়া মৃত কোষের স্তর জমে জমে জায়গাটি কালচে হয়ে যায়। বেশি ক্ষণ রোদে থাকলেও ‘হাইপার পিগমেন্টেশন’-এর ফলেও কনুইয়ের কালচে দাগ পড়ে যায়।


নামী-দামি প্রসাধনী ব্যবহার এমনকি ব্লিচ করেও এই দাগ কিছুতেই যেতে চায় না! ঘরে কি এর সমাধার সম্ভব? কী করলে হবে মুশকিল আসান?


১। টম্যাটোর প্যাক: ত্বকের দাগ-ছোপ দূর করতে টম্যাটোর জবাব নেই। হাঁটু এবং কনুইয়ের কালচে দাগ তুলতে ওই অংশে টম্যাটো ঘষুন। কয়েক মিনিট পর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। এ ছাড়া চালের গুঁড়োর মধ্যে টম্যাটোর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে কনুই এবং হাঁটুতে লাগান। ১০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে ফেললেই হবে।


২। লেবু ও চিনির প্যাক: এক চামচ চিনি সামান্য পরিমাণ জলে গুলে ঘন রস করে নিন। একটি পাতিলেবুকে সমান দু’ভাগে কেটে ফেলুন। পাতিলেবুর অর্ধেক ভাগের মধ্যে চিনির রস দিয়ে কনুইয়ে পাঁচ-সাত মিনিট ভাল করে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন করলে দ্রুত ফল পাবেন।


৩। বেসন ও দইয়ের প্যাক: এক চামচ বেসন, এক চামচ টকদই, এক চামচ পাতিলেবুর রস আর এক চামচ চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে কনুইয়ে অন্তত দশ মিনিট মালিশ করুন। তার পর ৫ মিনিট রেখে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।


৪। অ্যালো ভেরা ও কফির প্যাক: এক চামচ কফি নিয়ে তাতে অ্যালো ভেরা জেল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। এ বার এই মিশ্রণটি হাঁটু ও কনুইতে ঘষুন। এক টানা কয়েক মিনিট ঘষার পর কফির রং বদলাতে শুরু করবে। তখন জল দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার করলে সুফল পাবেন।


৫। বেকিং সোডা: বেকিং সোডার সঙ্গে পরিমাণ মতো দুধ মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। এই পেস্ট কনুইয়ের ত্বকে চক্রাকারে ঘষুন ৩ মিনিট। এরপর ধুয়ে ফেলুন।


৬। শসা; শসা স্লাইস করে কেটে লেবুর রসের ছিটিয়ে ঘষুন কনুইয়ে।


৭। অলিভ অয়েলের সঙ্গে চিনি: অলিভ অয়েলের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে কনুইয়ের ত্বকে ৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর ঘষে ঘষে উঠিয়ে ফেলুন।


এই সব টোটকাই কিন্তু দীর্ঘ দিন নিয়মিত ব্যবহার করলে তবেই ফল পাবেন। এক দিনে ফলের আশা না করাই ভালো।