একাধিক অ্যালার্মে ঘুম থেকে ওঠেন, বিপদ ডেকে আনছেন কি?

রাতে একটার পর একটা অ্যালার্ম লাগিয়ে শোওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছ‌ে! ফলে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে একটার পর একটা অ্যালার্ম বন্ধ করতে হয়। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, যদি কেউ জোর করে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করেন, সে ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়ে ‘সার্কেডিয়ান ক্লক’, অর্থাৎ শরীরবৃত্তীয় ঘড়িতে। ঘুমের একটি নির্দিষ্ট চক্র রয়েছে। এক জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। রাত করে ঘুমিয়ে অনেকেই সকাল সকাল ওঠেন। ঘুমের চক্র অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এতে শরীরের কার্যক্ষমতা অনেক কমে যায়। তাই এক বারের বেশি অ্যালার্ম নয়।


সাম্প্রতিককালের বেশকিছু সমীক্ষায় উঠে এসেছে অ্যালার্মের কিছু গুরুতর সমস্যার কথা। ফোনে বা ঘড়িতে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙছে প্রতিদিন।‌ বিশেষজ্ঞদের দাবি, এর থেকেই তৈরি হচ্ছে বেশকিছু স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা। অ্যালার্মের শব্দে হঠাৎ করে ঘুম ভেঙে যাওয়ার ফলে শরীরের সাধারণ ছন্দে বাধা পড়ে। সেই থেকে হৃদরোগ বা মস্তিস্ক ও কানের সমস্যাও হতে পারে।


সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় অ্যালার্ম ও স্বাস্থ্যের সম্পর্কের দিকটি উঠে এসেছে।


বিজ্ঞানীদের দাবি, অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙার ফলে হৃদরোগের আশঙ্কা থাকে। এর কারণ হঠাৎ শব্দে ঘুম ভাঙলে শরীরে আপৎকালীন হরমোন আড্রিনালিনের ক্ষরণ বাড়ে। অ্যাড্রিনালিনের এই ক্ষরণবৃদ্ধির ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এতেই হৃদযন্ত্রে চাপ তৈরি হয়।


অ্যালার্মের শব্দ কানে এলে তা মাথায় স্নায়ুর মাধ্যমে বার্তা বহন করে নিয়ে যায়। এরপরেই আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। দীর্ঘসময় ধরে এমন হঠাৎ শব্দ শুনলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমতে থাকে।


হঠাৎ করে অ্যালার্মের জন্য ঘুম ভেঙে গেলে হজমের সাধারণ ছন্দ ব্যাহত হয়। ফলে হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এর থেকে বাড়তে অ্যাসিডিটি সংক্রান্ত সমস্যা।


অ্যালার্ম ঘুমের স্বাভাবিক চাহিদা মেটার আগেই ঘুম ভাঙিয়ে দেয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ঘুমের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে অ্যালার্মের জন্য হঠৎ ঘুম ভাঙলে সে চাহিদা পূরণ নাও হতে পারে। ফলে‌ ডায়াবেটিসজনিত সমস্যা বাড়তে পারে।


অনেকেই ঘুম থেকে উঠে অগোছালো বিছানা রেখেই অন্য কাজে লেগে পড়েন। নানা গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের বিছানা নিজে পরিষ্কার করলে সারা দিন চনমনে থাকা যায়। কর্মদক্ষতাও বাড়ে। নইলে সারা দিন অলস্য আসে।


বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অ্যালার্ম সময়মাফিক উপকার করলেও শরীরের স্বাভাবিক বিশ্রামটাও দরকার। তাই দিনে অন্তত ৮ ঘন্টা অ্যালার্ম ছাড়াই ঘুমোনো চেষ্টা করা উচিত। দৈনিক ঘুমের চাহিদা সম্পূর্ণ হলে ঘুম নিজে থেকেই ভেঙে যাবে। ফলে অ্যালার্মেরও প্রয়োজন হবে না।