অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মরতে বসেছেন মুক্তিযোদ্ধা মকবুল

Kustia Maqbool hossain
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন অর্থাভাবে এক প্রকার বিনা চিকিৎসায় মরতে বসেছেন। দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া এই বীর সেনানী তার এই দুর্দিনে কাউকেই আর পাশে পাচ্ছেন না। নিজের জীবন বাঁচাতে একটু সহযোগিতা পাবার আশায় স্ত্রীকে সাথে নিয়ে বয়োবৃদ্ধ মকবুল হোসেন এখন সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু তাতেও কোন সাড়া না মেলায় তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে গত এক মাস ধরে মকবুল হোসেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ১০নং ওয়ার্ডের ৭নং কেবিনে অর্থপেডিক বিভাগের প্রধান ডা. রতন পালের অধীনে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে আর্থিক দৈন্যতার কারণে চিকিৎসা সম্পন্ন না করেই এক দফা হাসপাতাল ত্যাগ করে বাসায় চলে আসেন। ওষুধ-পথ্য ঠিক মত জোগাড় করে খেতে না পারায় শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে গত ৫ মে আবারও তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেই থেকে হাসপাতালেই আছেন।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, তার ভেঙে যাওয়া হাত অপারেশন করতে হবে। শরীরে রক্ত খুব কম থাকায় অপারেশনও করতে পারছেন না চিকিৎসকরা। জরুরিভাবে শরীরে দু’ ব্যাগ রক্ত দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আজ প্রায় দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দু’ব্যাগ ও পজেটিভ রক্ত জোগাড় করতে পারেননি মকবুল হোসেন। জীবন সায়াহ্নে এসে মকবুল হোসেনের এখন শুধু একটাই প্রশ্ন এই পৃথিবীতে কী এমন একজনও নেই যে তার জন্য একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন ? তিনি শুধু একাই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি; তাঁর বাবা শামসুল আলী মোল্লা এবং বড় ভাই শুকুর আলী মোল্লাও ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মকবুল হোসেন মোল্লার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং ম-১৬৪৭০৮।

জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উদিবাড়ী গ্রামের শামসুল আলী মোল্লার তিন ছেলে মেয়ের মধ্যে মকবুল হোসেন মোল্লা সবার ছোট। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বড় ছেলে শুকুর আলী মোল্লা এবং ছোট ছেলে মকবুল হোসেন মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন শামসুল আলী মোল্লা। জীবন বাজি রেখে প্রাণপন যুদ্ধে করে দেশকে স্বাধীন করেন। পিতা শামসুল আলী মোল্লা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। ২০০৪ সালে তিনি মারা যান। বর্তমানে দুই ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আলী মোল্লা এবং মকবুল হোসেন মোল্লা জীবিত রয়েছেন।

দেশ স্বাধীন হলে পুলিশে ওয়্যারলেস অপারেটর পদে চাকরি নেন মকবুল হোসেন মোল্লা। ২০০৫ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে মকবুল হোসেনের সংসার। একমাত্র ছেলে নসিমন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। নিজস্ব কোনো জায়গা-জমি না থাকায় বর্তমানে দুই মেয়ের সংসারেই থাকেন স্ত্রীকে নিয়ে। মাস গেলে পেনশনের সামান্য কটা টাকা আর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রাপ্য ১০ হাজার টাকা ভাতা দিয়ে কোনোরকম কষ্টে সংসার চলে মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মোল্লার। তার উপর একমাত্র ছেলে ও দুই মেয়ের সংসারেও নিয়মিত আর্থিক সাহায্য করতে হয়।

গত ১৮ এপ্রিল ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সায় করে ত্রিমোহনী থেকে উদিবাড়ী যাওয়ার সময় রাস্তা খারাপ থাকায় পথিমধ্যে অটোরিক্সা উল্টে গুরুতর আহত হন মকবুল হোসেন। পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে যায়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। সেই থেকে তিনি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শরীর চরম দুর্বল হয়ে পড়ায় এখন আর অন্যের সহযোগিতা ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। তার উপর ডায়বেটিকস রোগে আক্রান্ত।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের অর্থপেডিক বিভাগের প্রধান ডা. রতন পাল জানান, মকবুল হোসেনের শরীর খুব দুর্বল। শরীরে রক্ত খুবই কম। এই মুহূর্তে অন্তত দু ব্যাগ রক্ত দেওয়া প্রয়োজন। দুর্ঘটনায় ভেঙে যাওয়া হাতে অস্ত্রোপচার করা লাগবে। তার দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মোল্লার চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকু জানান, বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম না। ইউনিট কমান্ডের পক্ষ থেকে চিকিৎসার বিষয়ে সম্ভাব্য সব রকম সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।

ad