‘অস্বাভাবিক’ হারে বেড়েছে স্কুল ড্রেস বিক্রি

School dress
ad

জাগরণ ডেস্ক: স্কুল-কলেজে ভর্তি শুরুর পর কয়েক সপ্তাহ স্কুল ড্রেস বিক্রি বেড়ে যায়। ওই সময় ব্যস্ত থাকতে হয় দর্জিদের। তবে এখন ভর্তি মৌসুম নয়, তবুও স্কুল ড্রেস বানাতে ব্যস্ত দর্জিরা। আর হঠাৎ করেই স্কুল ড্রেস বানানোর হিড়িক পড়ায় বেশ বিস্মিত দর্জিরাও। তাছাড়া, শহরের মার্কেটগুলোতেও সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট বিক্রির ধুম পড়েছে।

গত ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের জেরে পরদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে মাঠে নামে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। এরপর এগিয়ে আসে অন্যান্য স্কুল কলেজের ছাত্ররা। গত ১ সপ্তাহ ধরে দেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এসব আন্দোলনে স্কুলের ড্রেস ও আইডি কার্ড পড়ে অংশ নিচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এই আন্দোলন শুরু হওয়ার পর প্রথম চারদিন দর্জিদের কাছে স্কুল-কলেজ ড্রেস বানানোর কোনো চাপ ছিল না। মাঝে মধ্যে দুই একটি অর্ডার আসতো। তবে তিনদিন ধরে হঠাৎই চাপ বেড়ে যায়। বিপুল পরিমাণ স্কুল ড্রেস বানানোর অর্ডার আসে। যা একটু অবাক করা মতোই।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন দর্জির সাথে কথা বলে জানাগেছে, গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট বানানোর অর্ডার আসা শুরু করে। এসব শার্টে কোনো প্রতিষ্ঠানের লোগো লাগানোর অর্ডার নেই। বছরের প্রথম দিকে সাদা শার্ট বিক্রির হিড়িক থাকলেও বছরের মাঝামাঝি অবস্থানে এই বিক্রি অস্বাভাবিক।

রাজধানীতে স্কুল ড্রেস বা সাদা শার্ট পাওয়া যায় এমন কয়েকটি মার্কেটের মধ্যে অন্যতম নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর সুপার মার্কেট, আল্লাহ করিম সুপার মার্কেট, মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প’ ও পুরনো কাপড় বিক্রির মার্কেট গরীবুল্লাহ মার্কেট। এসব মার্কেটের বিভিন্ন দোকান ঘুরেও মিলল একই তথ্য। বিক্রি অস্বাভাবিক। অনেক দোকানদার বললেন তারা তাদের দোকানী জীবনের কোনো সময়ই এতো শাদা শার্ট বিক্রি হতে দেখেননি।

এদিকে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করতে দেখা যায় অনেককে। শুক্রবার বিভিন্ন অলি গলিতেও এই কাজ করতে দেখা যায়। তাদের দেখলেই বোঝা যায় তারা স্কুল-কলেজের ছাত্র না। প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই বলছেন, যারা রাতে লাইসেন্স চেক করছে তাদের ব্যবহার খুবই খারাপ। তারা ছাত্র হতে পারে না। অনেকের বয়স ২৫-২৮ বছর।

এ বিষয়টি নজরে এসেছে পুলিশেরও। শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে দুর্ঘটনার মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে, সীমাবদ্ধতার কারণে চাইলেও তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য মহৎ। কিন্তু গোয়েন্দা ও সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী এই আন্দোলনকে পলিটিসাইজ করার চেষ্টা চলছে। ছাত্রদের স্কুল ড্রেসের বিক্রি ও বানানো বেড়েছে। আমরা ছাত্রদের নিরাপত্তার নিয়ে শঙ্কিত।

তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নোংরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াচ্ছে। এইট-নাইনের কিশোর যেসব ভাষা ব্যবহার করছে সেগুলো জনসম্মুখে ব্যবহার করা লজ্জাজনক। আমরা অভিভাবক ও শিক্ষকদের এ বিষয়টি লক্ষ্য রাখার অনুরোধ করছি। আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করছি। কেউ যেন শিক্ষার্থীদের ব্যবহার না করতে পারে সেই বিষয়টিও লক্ষ্য রাখছি।

ad