আজও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান

Shahbag
ad

জাগরণ ডেস্ক: নিরাপদ সড়কের দাবিতে আজও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তারা নিরাপদ সড়ক ও নৌপরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। তবে আজকের আন্দোলনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণই বেশী।

রবিবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর সাইন্স ল্যাব, ধানমন্ডি, মিরপুর, বিমানবন্দর সড়ক, কুড়িল, ফার্মগেট, মিরপুর ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে।

আজ সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবস্থান নিয়ে ঝিগাতলায় ছাত্রলীগের হামলার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকে যান।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় সায়েন্স ল্যাবরেটরি-এলিফ্যান্ট রোড-মৎস্য ভবন-বাংলামোটর পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

এতে ঢাকা সিটি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহম্মদ কলেজসহ বেশ কয়েকটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তাদের সঙ্গে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

শিক্ষার্থীরা নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ, ছাত্রলীগের হামলার বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দেন। পরে তারা ঝিগাতলার দিকে যেতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে আবারও সাইন্স ল্যাবরেটরিতে ফিরে আসেন।

রাজধানীর মিরপুরে অষ্টম দিনের মতো মিছিল করছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে মিরপুর-২ নম্বর থেকে প্রায় তিনশ শিক্ষার্থী একটি মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় যান। এ সময় ৬০-৭০টি মোটরসাইকেলে করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের পেছনে পেছনে যান। পরে গোলচত্বর এলাকায় শিক্ষার্থীদের ঘেরাও করে তাদের মিরপুর-২ এর দিকে ফেরত পাঠানো হয়।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেসরকারি এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ফার্মগেট মোড়ে রওনা দেন। পরে পুলিশের বাধার মুখে তারা ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন।

রামপুরায় বেলা পৌনে ১টার দিকে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান নেয় একদল যুবক। মেরুল বাড্ডা থেকে রামপুরা ব্রিজের দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে এগোতে থাকে তারা। রামপুরা ব্রিজের কাছে তখন স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইমপেরিয়াল কলেজ, খিলগাঁও ওমেন্স স্কুল ও কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সড়কে অবস্থান করছিল। এ সময় শিক্ষার্থীরা গাছ ও দোকান ভেঙে লাঠি ও বাঁশ নিয়ে অবস্থান নেয়।

ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বনানী পুলিশ বক্সের কাছে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে। সড়কে চলাচলরত যানবাহনের কাগজ পরীক্ষা করছে শিক্ষার্থীরা। চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখছে তারা। ফলে এই সড়কের দুই পাশ দিয়ে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে বনানীতে অবস্থিত সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শ শিক্ষার্থী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এসে অবস্থান নেয়।

গত ২৯ জুলাই বিমানকন্দর সড়কে বেপরোয়া বাস চাপায় রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। আহত হয় আরও বেশ কয়েকজন। এরপরই শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামে। তারা সরকারের কাছে ৯ দফা দাবি তুলে ধরে যানবাহনের লাইসেন্স ও ফিটনেস আছে কিনা তা সড়কে নেমে পরীক্ষা করে। আন্দোলনের সপ্তম দিনে এসে শিক্ষার্থীদের সাথে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ধানমন্ডিতে সংঘর্ষ হয়।

ad