তিন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্র রিমান্ডে

Jagoran- East West
ad

জাগরণ ডেস্ক: রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেপ্তার হওয়া ২২ ছাত্রকে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের দুই মামলায় দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম আবদুল্লাহ আল মাসুদ এই আদেশ দেন।

এর আগে সোমবার (৬ আগস্ট) দিনভর সংঘর্ষের পর রাতেই বাড্ডা ও ভাটারা থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই দুই মামলায় বাড্ডা থানা পুলিশ ১৪ জন ছাত্রকে এবং ভাটারা থানা পুলিশ ৮ জন ছাত্রকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে।

বাড্ডা থানার মামলায় আসামীরা হলেন- রিসালাতুল ফেরদৌস, রেদোয়ান আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম, বায়েজিদ, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এ এইচ এম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মাদ, সীমান্ত সরকার, ইকতিদার হোসেন, জাহিদুল হক ও হাসান।

ভাটারা থানার মামলায় আসামীরা হলেন- আজিজুল করিম, মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ, ফয়েজ আহম্মেদ আদনান, সাবের আহম্মেদ, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার, সাখাওয়াত হোসেন ও আমিনুল এহসান।

গ্রেপ্তারকৃতদের গতকাল আদালতের এজলাসে তোলা হলে স্বজনদের দেখে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেন, পুলিশ ধরে নিয়ে থানায় ফেলে নির্যাতন করেছে। ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে কয়েজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তবে বাড্ডা থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জুলহাস মিয়া রিমান্ড আবেদনে বলেন, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল দিয়ে রাস্তার গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে আসামীরা। এ ঘটনার ইন্ধনদাতা এবং অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামীদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

বাড্ডা থানা পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, আসামীরা বাড্ডা থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর করেছে। তারা বাড্ডা পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ধরাতে গেলে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভাটারা থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাসান মাসুদ রিমান্ড আবেদনে বলেন, আসামীরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতাল ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় লোহার রড, লোহার পাইপ ও ইট দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামীদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

আসামীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম মুহিউদ্দিন ফারুক আদালতকে বলেন, পুলিশ নিরপরাধ ছাত্র-ছাত্রীদের ধরে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে।

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিদওয়ান আহমেদের আইনজীবী কবির হোসেন আদালতকে বলেন, পুলিশ ধরে নিয়ে থানায় ফেলে মেরে তার হাতের একটি আঙুল ভেঙে দিয়েছে। তৃতীয় পক্ষের যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার না করে নিরীহ ছাত্রদের ধরে এনেছে।

ad