একরামের স্ত্রীর অভিযোগ খতিয়ে দেখবে র‌্যাব

Ekram-Wife
ad

জাগরণ ডেস্ক: মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের স্ত্রীর অভিযোগের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম ও দুই কন্যা তাহিয়াত এবং নাহিয়ানকে নিয়ে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় সাংবাদিকদের তারা একটি অডিও ক্লিপ দেন। একরামুলের স্বজনদের দাবি, একরামুল হককে যে ঠান্ডা মাথায় এবং পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে তার প্রমাণ ওই অডিও ক্লিপটি। যা এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

চলমান মাদকরিরোধী অভিযানে গত ২৬ মে (শনিবার) র‍্যারের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. একরামুল হক নিহত হন। র‍্যাবের দাবি, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক চোরাচালানের গডফাদার এবং তিনি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

তবে বিবিসির কাছে একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম বলেন, আমি হলফ করে বলতে পারি, একরামুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ী ছিলেন না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তিনি আরও বলেন, একরামকে ধরে নেওয়ার সময় তার সাথে তিন দফা মুঠোফোনে কথা হয়। তখন তিনি কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে মেয়ে ও তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। রাত ১১টা ১৪ মিনিটে ফোন করলে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি ইউএনও অফিসে যাচ্ছি। কাজ শেষে ইনশা আল্লাহ ফিরে আসব। এরপর সর্বশেষ রাত ১১টা ৩২ মিনিটে আবারও ফোন করলে ফোন রিসিভ হয়। কিন্তু এ সময় তিনি আর কথা বলছিলেন না। অপরিচিত একটি কণ্ঠের কথা বলতে শোনা যায়। সেই অপরিচিত কণ্ঠ তাঁকে বলছেন, “তাহলে তুমি জড়িত নও।” আমার স্বামী উত্তর দেন, “না, আমি জড়িত নই।” এরপরই গুলির আওয়াজ ও স্বামীর আর্তচিৎকার শুনতে পাই।’

একারামের নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, একরাম মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল না। এ ঘটনায় তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ad