কামালপুর স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ: শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন

Kamalpur land port, stone, import, off
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী কামালপুর স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। গত দেড় বছর ধরে এ স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় একদিকে স্থলবন্দরে কর্মরত শ্রমিকরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন, অন্যদিকে পাথর ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জানা যায়, ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় স্থলবন্দরটির প্রায় পাঁচ হাজার নারী ও পুরুষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় সরকার গত এক বছরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

কামালপুর স্থলবন্দরের রাজস্ব কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ওই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে অন্তত ৮০ থেকে ১০০টি ট্রাক ও গাড়ি পাথর নিয়ে বাংলাদেশে আসতো। ২০১৫ সালেও বন্দর দিয়ে ৫৭ হাজার মেট্রিকটন পাথর আমদানি হয়েছিল। ২০১৬ সালের প্রথমদিকে মাত্র ৫৬ মেট্রিকটন পাথর আমদানি হয়। এরপর থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে আদা ও সুপারি আমদানি চালু রয়েছে।

স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কোনো সমস্যা না থাকলেও ভারতীয় ব্যবসায়ীরা পাথর রপ্তানি না করে ভারতের রাস্তা খারাপ ও পরিবেশসংক্রান্ত অজুহাত দেখাচ্ছেন। এছাড়া তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। তা সমাধান না হওয়ার কারণে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারছে না স্থলবন্দরটি। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনায় বসেও সমাধান হচ্ছে না। তবে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।

স্থলবন্দরের শ্রমিকরা জানান, এক বছর আগেও স্থলবন্দরটি কর্মচঞ্চল ছিল। বন্দরে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক পাথর ভাঙার কাজ করতেন। পাথর আসা বন্ধ থাকার কারণে এসব শ্রমিক এখন বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই কাজ না থাকায় ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করছেন।

এ ব্যাপারে কামালপুর স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, শতাধিক পাথর ব্যবসায়ীর এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে পাথরের জন্য দেয়া টাকা আটকা পড়ে রয়েছে। তবে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রায় দিনই আলোচনা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পাথর আমদানি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ad