কুষ্টিয়ার ইউপি সদস্যের বস্তাবন্দী লাশ মিলল রাজবাড়ীতে

Kushtia, member of UP, recovered the body,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ১২ ঘন্টা পর উপজেলার জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মাজেদের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি পুলিশ তৎপর হলে রাতে মেম্বারকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।

রবিবার (১০ জুন) সকালে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মেঘনা খামার বাড়ি এলাকায় তার বস্তাবন্দী লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে পরিবারের লোকেরা গিয়ে মরদেহ সনাক্ত করে। খোকসা ও পাংশা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এ ব্যাপারে পাংশা থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নিহতের পরিবার ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানাগেছে, আব্দুল মাজেদ শনিবার ইফতার করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। ভবানীগঞ্জ বাজারের এক কাঠ ব্যবসায়ীর সাথে তিনি ইফতার করেন। এরপর থেকে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন।

Kushtia, member of UP, recovered the body,

পরিবারের লোকেরা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক নিখোঁজ মেম্বারের মোবাইল ফোনে তাকে কল করেন। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। রাতেই খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয় বলে নিশ্চিত করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। নিখোঁজ মেম্বারের মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ রাতেই নিখোঁজ মেম্বারের লোকেশন সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, নিখোঁজ মেম্বারের লাশটি পাটের সুতার তৈরী ব্যাগে ভরা ছিল। তার গলায় ডিস এন্টেনার তার পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। বস্তার মধ্যে মেম্বারের হাত-পা বাঁধা ছিল।

তিনি জানান, তিনি তিনবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন। হত্যার পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে, আবার পূর্ব শত্রুতার জেরও হতে পারে। পুলিশ তার মোবাইল ট্রাকিং করে লোকেশন নিশ্চিত হয় বলে আমাকে জানিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কেন পদক্ষেপ নেয়নি সেটাই আমার প্রশ্ন।

স্বামীর মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকে বাববার মুর্ছা যাচ্ছেন নিহত মাজেদের স্ত্রী রহিমা খাতুন, তিনি স্বামীর হত্যার কারণ বলতে পারেননি।

পুলিশ লোকেশন নিশ্চিত হয়েও কি কারণে অভিযান পরিচালনা করেনি, এ প্রশ্ন নিহতের একমাত্র ছেলে রুবেল হোসেনের। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রুবেল রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের অফিসে আছেন, সেখান থেকে ফিরে বিস্তারিত জানাবেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রহমান সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। পরে তার সরকারি মোবাইল ও টেলিফোনে কল করা হয় কিন্তু তিনি রিসিভ করেনি।

তবে পাংশা থানার ওসি আহসান উল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, লাশ ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্তের পর হত্যার মোটিভ সম্পর্কে জানানো হবে।

ad