কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে

Rajibpur picture (2)
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমোরসহ ১৬টি নদ নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধিও ফলে নদী তীরবর্তী প্রায় ২৫টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৪৫ হাজার পরিবার। সেই সাধে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন।

কৃড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাগেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তায় ২৫, ধরলায় ৪৬, ব্রহ্মপুত্রে ৩৫ ও দুধকুমোর নদীতে ৩২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুক্রবার (৬ জুলাই) দুপুরের দিকে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পানিতে ডুবে গেছে কৃষকের বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষেত। সদর উপজেলার হলোখানার Rajibpur picture ইউনিয়নের সারোডোব গ্রামে একটি বাঁধ ভেঙে ৪টি ইউনিয়নের ৯টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে ওই এলাকার ১০টি পরিবার।

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাজীবপুর ও রৌমারী উপজেলার প্রায় ১০০ হেক্টর পাটের জমি পানিতে ডুবে গেছে। অনেক জায়গায় তীব্র স্রোতে জমিতে পলি পড়েছে।বন্যায় রাজীবপুর উপজেলার আজগর দেওয়ানী পাড়া গ্রামের পাকা সড়ক ভেঙে গেছে।দুধকুমোর নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভুরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলারও ১৫টি গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে।ঝঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে রাজারহাট উপজেলার কালুয়ারচর বাঁধ। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলাকাবাসী বালুর বস্তা ফেলে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করছে।

গত কয়েকদিন থেকে ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তার পানি বাড়ায় ডুবে গেছে উলিপুরের বেশ কয়েকটি নিচু গ্রাম।  তীব্র স্রোতের কারণে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে দালাল পাড়া, কড়াই পাড়া গ্রাম। তিস্তা নদী অববাহিকার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নেফরা, নন্দু নেফরা, বজরা ইউনিয়নের পশ্চিম বজরা, বাধেঁর বাজার, বগলা কুড়া ও সাতালস্কর গ্রামেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত নাগড়াকুড়াটি বাঁধসহ ৫টি গ্রাম ও পাইকর পাড়া শ্যামলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২টি মন্দির।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলার নদ নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে বন্য দেখা দিচ্ছে।অনেক নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ঝুঁকিপূর্ণ  বাঁধ রক্ষার কাজ করা হচ্ছে।

ad