গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ের যুদ্ধে ‘যুদ্ধদলিল’

juddhodolil 1
ad

জাগরণ ডেস্ক: এটা আরেকটা যুদ্ধ। গণহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল নিরস্ত্র বাঙালী জাতির ওপর, তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম। ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হলেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। এই স্বীকৃতির জন্যই এখন যুদ্ধদলিল-এর সংগ্রাম।

‘যুদ্ধদলিল’ এর যুব কার্যক্রম শুরু ফেসবুকে। একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে। সময়টা ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, পাকিস্তানীদের নির্যাতনের কথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো। এরজন্য তারা বাছাই করে নেয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর ১৫ খণ্ডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রকাশনা ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’।

তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এই খণ্ডগুলো সম্পাদনা করেছেন কবি ও সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমান। প্রায় ১১ হাজার পৃষ্ঠার এই গ্রন্থের ৯ হাজার পৃষ্ঠা ইংরেজিতে। যুদ্ধদলিল-এর সাথে যুক্ত তরুণেরা এই ৯ হাজার পৃষ্ঠা অনুবাদ করে ইউনিকোডে রূপান্তর করে ওয়েবসাইটে একত্রে প্রকাশ করেছে, যা তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে একটি প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

যুদ্ধদলিল ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ এর ৮ম খণ্ডকে অঞ্চলভিত্তিক ৯টি খণ্ডে ভাগ করে বের করেছে তথ্যসমৃদ্ধ বই। মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখযোগ্য ঘটনা নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে গ্রাফিক নভেল, কমিকস। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিচ্ছে এই বই, যা সাধারণ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে সাহায্য করছে।

juddhodolil 5

যুদ্ধদলিল-এর প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে প্রকল্প ব্যবস্থাপক জান্নাতুল মনিকা বলেন, যুদ্ধদলিল-এর শুরু নাজমুল হাসান লিও-এর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে। উনি হাসান হাফিজুর রহমান এর দলিলপত্র থেকে কিছু কিছু অংশ ফেসবুকে ছবি তুলে দিতেন অনুবাদ করে দেয়ার জন্য। প্রথমদিনেই তিনি ১৫০ জনের রেসপন্স পান, এইভাবেই আসলে শুরু। পরে ৩০০ জনের একটা টিম হলো কাজটা করার জন্য। ২ বছর এভাবে করার পর স্বপ্নের কাজটা শেষ হয়। আমাদের এখন মূল কাজ হচ্ছে সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেয়া।

গত ২৫ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবসহ দেশের প্রতিটি জেলায় ‘যুদ্ধদলিল’ বিনামূল্যে ’গণহত্যার বুকলেট’ বিতরণের আয়োজন করে। যেখানে দাবি ছিল একটাই- ‘২৫শে মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস চাই’। এই দাবিতেই এখন যুদ্ধদলিল-এর স্বেচ্ছাসেবকরা ছুটছেন দেশের প্রত্যন্ত এলাকায়। হাতে তুলে দিচ্ছেন ওই অঞ্চলের গণহত্যার ইতিহাস সংবলিত বই।

juddhodolil 2

প্রেসক্লাবের এই আয়োজনে এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ। তিনি বলেন,‘পাকিস্তানীরা যে অত্যাচার আমাদের ওপর চালিয়েছে তা একইসাথে আমাদের তরুণ প্রজন্ম এবং সারাবিশ্বকে জানাতে কাজ করছে যুদ্ধদলিল। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে এটা আমারও চাওয়া। যুদ্ধদলিলের এই কার্যক্রমে তরুণদের যুক্ত করতে পারলেই কাজ আরও বেগবান হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি যুদ্ধদলিলের সাথে আছি।

তিনি বলেন, যুদ্ধদলিল-এর চাওয়া একটাই। আমরা চাই সবার ঘরে অন্তত তার নিজ জেলার গণহত্যার তথ্য সমৃদ্ধ বইটি থাকুক। তরুণ প্রজন্ম জানুক কি ত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীন দেশ পেয়েছি। গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করা, যেন সারাবিশ্ব প্রতিবছর পাকিস্তানীদের বর্বরতার কথা স্মরণ করে।

ad