গুজবে কান দেবেন না, আন্দোলনে ঢুকেছে তৃতীয় পক্ষ: প্রধানমন্ত্রী

Jagoran- Rumors, movements, prime minister
ad

জাগরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিরাপদ সড়ক চাই দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবে কেউ কান দেবেন না। অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

রবিবার (৫ আগস্ট) সকালে গণভবনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন (ইনফো-সরকার ৩য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১০টি জেলার ৩০০ ইউনিয়নের অপটিক্যাল ফাইবার কানেক্টিভিটি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যা করেছে ভালো করেছে। তারা সহপাঠীদের হারানোর বেদনায় রাস্তায় নেমেছে। আন্দোলন করেছে। কিন্তু এই কোমলমতি শিশুদের মধ্যে তৃতীয় শক্তি ঢুকে পড়েছে। যা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন-আতিঙ্কত। কারণ এই শক্তি এমন কিছু নেই যা পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ট্রাফিক সপ্তাহ করছি। পুলিশ গাড়ির কাগজপত্রও ফিটনেস যাচাই বাছাই করবে। শিক্ষার্থীদের আর রাস্তায় থাকার দরকার নেই, পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। পারলে তারা ভলেন্টিয়ার হয়ে থাকতে পারবে। তৃতীয় পক্ষ যদি কোনো অঘটন ঘটায় তার দায় ভার কে নেবে?

শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের অনুরোধ করছি আপনার ছেলেমেয়েদেরকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যান। তাদেরকে লেখাপড়ায় মনোযোগী করান। তাদেরকে স্কুল-কলেজে পাঠান। লেখাপড়ার পরিবেশ তৈরি করুন। তাদের দাবি-দাওয়া পূরণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সবাইকে আরও সর্তক থাকতে হবে। এ বিষয়ে সরকার কঠোর হবে। ট্রাফিক আইন পার্লামেন্টে নীতিগত সমর্থন দিয়ে অনুমোদন দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যা মন্ত্রীসভায় আসবে। পরে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার পর তা পার্লামেন্ট উত্থাপন হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি । আগামী দিনে তোমরা আসবে। দেশকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব তোমাদের ওপর পড়বে। শিক্ষা ছাড়া কোনও জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। যথেষ্ট হয়েছে, আর না। এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে। লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গেল কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানান কথা বলছে। তারা ধৈর্য ধরেছে। আমরা তাদের সহায়তা করেছি। মন্ত্রী-এমপিরা সহায়তা করেছে। তাদের যা যা বলেছে তা তা করেছে। কিন্তু কোমলমতি এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে গেছে। তারা সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, গাউছিয়া মার্কেট শিক্ষার্থীদের কাপড় বিক্রি বেড়েছে। আইডি কার্ড বানানোর হিড়িক বেড়েছে। কারা করছে এসব?

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নিবার আমাদের আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। ইট পাথর ছোড়া হয়। কিন্তু তাদের ব্যাগে বই না থেকে পাথর কেন? কারা তাদের ব্যাগে পাথর দিয়েছে। আমাকে পার্টি অফিস থেকে বার বার ফোন দেয়া হচ্ছিল, আমি বলেছি ধৈর্য ধরো। ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। গুজব ছিল আমাদের পার্টি অফিসে লাশ আছে। নারী নির্যাতিত হয়েছে। আমরা কয়েকজনকে পার্টি অফিসে নিয়ে আসি। তারা ঘুরে দেখেছে। পরে তারা নিজেরেই গুজবের কথা স্বীকার করেছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদের দাবি-দাওয়া যা ছিল, সবই একে একে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যেখানেই স্কুল, সেখানেই ট্রাফিক থাকবে, রাস্তা পারাপার করিয়ে দেবে। আন্ডারপাস করা হবে। ওভারব্রিজ হবে, তবে তা যেন ব্যবহার করে। চালকরা যেন ট্রাফিক রুল মেনে চলে, যারা পথচারী তাদেরও ট্রাফিক রুল জানতে হবে, মানতে হবে। স্কুল থেকে ট্রাফিক রুল যেন শিখতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলেছি। শিক্ষকদের সচেতন হতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষা গ্রহণের কাজে ব্যবহার করতে হবে। এটা যেন অপব্যবহার করা না হয়। ফেসবুকে অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে। নোংরা কথাবার্তা ব্যবহার করা যাবে না। প্রযুক্তির ব্যবহার তারা যেন নিজের জীবনকে সুন্দর করা, ভাল চিন্তা নিয়ে বেড়ে উঠে। স্বাধীন দেশের ভাবমূর্তি কোনভাবে যেন নষ্ট না হয় সেদিকে সকলকে নজর দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ২৩ বছরের ইতিহাস জানতে হবে। মুক্তিযোদ্ধার চেতনা নিজের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে।

ad